দিনহাটা মহকুমা শহর আর সিতাইয়ের মাঝে সিঙ্গিমারি নদীর উপর সাগর দিঘির ঘাটে সেতুর কাজ প্রায় শেষ। ইতিমধ্যে সিতাইয়ের দিকে সংযোগকারী রাস্তার কাজও সম্পন্ন হয়েছে। সেতুটির দিনহাটার দিকের সংযোগকারী রাস্তার কাজ কিছুটা  বাকি রযেছে। তা দ্রুত শেষ করার জন্য দিনরাত কাজ চলছে। সংযোগকারী এই রাস্তার কাজ শেষ হলেই সেতুর উদ্বোধন হবে। এর মধ্যে লোকসভা ভোট এগিয়ে আসছে। নির্বাচন কমিশন ভোট ঘোষণা করে দিলে, উদ্বোধন অনুষ্ঠান নিয়ে তখন টালবাহানা হতে পারে। তাই লোকসভা নির্বাচন ঘোষণার আগেই সেতুটির উদ্বোধনের জন্য তাড়াতাড়ি বকেয়া কাজ সারার চেষ্টা চলছে প্রশাসনের তরফে।

ইতিমধ্যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকেও সেতুটির উদ্বোধনের বিষয়ে জানানো হয়েছে বলে, স্থানীয় তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে। তৃণমূলের সিতাইয়ের বিধায়ক জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া বলেন, ‘‘উদ্বোধনের আগে সংযোগকারী দিনহাটার দিকের রাস্তার বাকি আছে। পিএমজিরোড পর্যন্ত রাস্তার কাজ মাত্র কয়েক মিটার আর বাকি রয়েছে। সেই কাজ দু’-তিন দিনের মধ্যে শেষ হলেই ব্রিজ উদ্বোধন হবে।’’ তখন আদাবাড়ি ঘাট হয়ে সব গাড়ি চলাচল করবে বলে তিনি জানান। তবে উদ্বোধনের আগে ইতিমধ্যেই ছোট-ছোট গাড়ি এই সেতুর উপর দিয়ে চলাচল করছে বলে জগদীশবাবু জানান। 

দিনহাটার সিতাই ব্লক ভৌগোলিকভাবে নদীর কারণে বিচ্ছিন্ন। সেখানে সেতুর দাবিতে অতীতে একাধিকবার আন্দোলন সংঘঠিত হয়। সিতাইয়ের সঙ্গে বাকি দিনহাটা মহকুমার বাকি এলাকার যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিল নৌকো। বর্ষায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করতে হত কৃষক থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণ মানুষকে। সিঙ্গিমারি নদীর উপর সেতুর দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আন্দোলনের পাশাপাশি বাম আমলে একাধিকবার সেতু তৈরির জন্য শিলান্যাসও হয়। তবে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০১২ সালে। ২০১৬ সালে সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে চলতি বছরের প্রথমে দিকে সেতুর কাজ শেষ হয়। কিন্তু দিনহাটার দিকে সংযোগকারী রাস্তার কাজ বাকি থাকায় তা উদ্বোধন করতে পারেনি প্রশাসন। লোকসভা ভোটের আগে তাই সব কাজ শেষ করে সেতু উদ্বোধনের কথা ভাবা হয়েছে।

উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, ‘‘দিনহাটা ও সিতাইয়ের মাঝে সিঙ্গিমারি নদীর উপর সেতু নির্মাণ নিয়ে, আগে যাঁরা ক্ষমতায় ছিলেন তাঁরা রাজনীতি করে গিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর এলাকার মানুষের কথা ভেবে, ২০১২ সালে এই সেতুর জন্য ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করেন।’’ খুব শীঘ্রই এই সেতুর উদ্বোধন হবে বলেও তিনি জানান। এই সেতু দিনহাটা মহকুমা শহরের সঙ্গে সিতাই ব্লকের যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

দিনহাটার সিতাই ব্লকের বিডিও অমিত কুমার মণ্ডল বলেন, ‘‘সেতুর কাজ হয়ে গিয়েছে। সিতাইয়ের দিকে রাস্তার কাজও শেষ হয়েছে। তবে দিনহাটার দিকে সংযোগকারী রাস্তার কাজ সামান্য বাকি রয়েছে।’’ কাজ শেষ করে খুব তাড়াতাড়ি সেতুর উদ্বোধন হবে বলেও তিনি জানান। দিনহাটা এক ব্লকের বিডিও সৌভিক চন্দ বলেন, ‘‘শীঘ্রই সেতুটি চালুর চেষ্টা করছে প্রশাসন।’’

কবে সেই দিন আসবে, আপাতত সেই অপেক্ষায় নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দারা।