কাটমানি অভিযোগে এবার তদন্তের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট। শিলিগুড়ির রানিগঞ্জ-পানিশালি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধানের বিরুদ্ধে দলেরই নেতারা অনাস্থা এনেছিলেন গত অগস্ট মাসে। প্রধানের বিরুদ্ধে ইন্দিরা আবাসের ঘর পাইয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে মোবাইল টাওয়ার বসানোয় কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রধান পদের দায়িত্ব নেওয়ার আড়াই বছর না হওয়ায় আইন অনুযায়ী অনাস্থা প্রস্তাব বাতিল করে দেয় বিডিও। প্রধানের অপসারণ চেয়ে জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে রিট আবেদন দাখিল করেছিলেন পঞ্চায়েতের কয়েকজন সদস্য। বৃহস্পতিবার বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চে আবেদনের শুনানি হয়। বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছেন, গত বছরের জুন মাস থেকে প্রধানের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ উঠেছে তার তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে বিডিওকে। তদন্ত রিপোর্টের প্রতিলিপি পঞ্চায়েত সদস্যদের দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সার্কিট বেঞ্চের সহকারি সরকারি আইনজীবী (এজিপি) দেবব্রত ধর বলেন, “পঞ্চায়েত আইন অনুযায়ী বিডিও সঠিক কাজই করেছেন। তবে আমরাও শুনানিতে বেঞ্চকে জানিয়েছিলাম, প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি তদন্ত করে দেখা হোক। সরকারপক্ষের তদন্তে কোনও আপত্তি নেই। বিচারপতি বিডিওকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।”

গত বছর শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের ভোটে রানিগঞ্জ-পানিশালি গ্রাম পঞ্চায়েতে অনাস্থায় জিতে প্রধান হন তৃণমূলের ভবতোষ মণ্ডল। এই গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৭টি আসনের মধ্যে এখন তৃণমূলের দখলে রয়েছে ১৬টি। প্রধানের বিরুদ্ধে কাটমানি থেকে তোলাবাজির একের পর এক অভিযোগে দলও বিব্রত হয় বলে দাবি। তৃণমূলেরই কিছু পঞ্চায়েত সদস্য গত অগস্টে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিলেন। সে প্রস্তাব বিডিও নাকচ করার পরেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন সকলে। মামলাকারীদের পক্ষের আইনজীবী সন্দীপ মণ্ডল বলেন, “কাটমানি নিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভুয়ো কাগজ বানিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সেগুলি প্রধান মেনে নিয়ে মুচলেকাও দিয়েছে। সব হাইকোর্টে জমা দিয়েছি। বিচারপতি সব নথি দেখে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বিচারপতি নির্দেশে বলেছেন, গ্রামের কোনও বাসিন্দা যদি তদন্তের গতিপ্রকৃতি জানতে চায় সেটা বিডিওকে জানাতে হবে।”

যাঁর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ সেই তৃণমূলের প্রধান ভবতোষ মণ্ডলের প্রতিক্রিয়া, “আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছিল নাকি, জানি না। মামলার বিষয়ও জানা নেই। কিসের অভিযোগের কথা বলা হচ্ছে তাও জানি না, ও নিয়ে কিছু বলতে পারব না।”