• নিজস্ব সংবাদদাতা 
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

হিন্দুরা থাকবেন মঙ্গল গ্রহ থেকে এলেও! বললেন বিজেপির সায়ন্তন

Sayantan Basu
রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু।

Advertisement

শুধু বাংলাদেশ কেন, মঙ্গলগ্রহ থেকে আসা হিন্দুদের জন্যও থাকবে ছাড়— আলিপুরদুয়ারে সাংবাদিক বৈঠকে এ কথা জানিয়ে দেন রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু।

পড়শি রাজ্য অসমে এনআরসি চালু হওয়ার পরে পশ্চিমবঙ্গে নানা স্তরে সংশয় ছড়িয়েছে। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ারের মতো সীমানাবর্তী জেলা বা মালদহ, দক্ষিণ দিনাজপুরের মতো বাংলাদেশ ঘেঁষা জেলাগুলিতে এই সংশয়ের মাত্রা কিছুটা হলেও বেশি। স্থানীয় লোকজনের দাবি, এর যথেষ্ট কারণও রয়েছে। প্রথমত, অসমে যে ১৯ লক্ষ লোকের নাম জাতীয় নাগরিকপঞ্জিতে ওঠেনি, তার মধ্যে নাকি বেশির ভাগই হিন্দু— এমন কথা ছড়িয়েছে এই সব জেলায়। দ্বিতীয়ত, অনেক গোর্খা এবং রাজবংশীদের নামও আসেনি ওই তালিকায়, বলছেন ওয়াকিবহাল মহলের লোকজন। 

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন, যাতে আলিপুরদুয়ার, কোচবিহারে দাঁড়িয়ে সংশয় কাটাতে বার্তা দেওয়া প্রয়োজন, মনে করছেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। সায়ন্তনের আলিপুরদুয়ারে এসে এনআরসি নিয়ে বক্তব্য রাখার কারণও সেটাই, বলছেন অনেকে। সায়ন্তনও এ দিন স্পষ্ট ভাষায় জানান, হিন্দুদের কোনও চিন্তা নেই। 

বিভিন্ন বিধানসভা এলাকার নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দিতে সোমবার আলিপুরদুয়ারে আসেন সায়ন্তন। মঙ্গলবার সেই বৈঠক শুরুর আগে দলের জেলা কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠকে ওঠে এনআরসি প্রসঙ্গ। সায়ন্তন বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি হতেই পারে। কিন্তু এক জন হিন্দুর নামও তার থেকে বাদ যাবে না। সেই হিন্দু বাংলাদেশ থেকে আসুন, আফগানিস্তান থেকে কিংবা মঙ্গলগ্রহ থেকে আসুন।’’ একই সঙ্গে তিনি জানান, ‘‘তৃণমূলের বাধায় আটকে যাওয়া নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আমরা রাজ্যসভায় পাশ করাব।” কিন্তু এনআরসি নিয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে আলাদা নীতি কেন? সায়ন্তন অবশ্য বলেন, “এ নিয়ে আমাদের দলের কোনও দ্বিচারিতা নেই। কারণ, দেশটা ভাগ হয়েছিল ধর্মের ভিত্তিতে।”

সায়ন্তনের এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি মৃদুল গোস্বামী। তিনি বলেন, “ভারত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। এখানে ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে ভাগ করা যাবে না। কিন্তু বিজেপি নেতারা এ ধরনের অরুচিকর মন্তব্য করে দেশের ধর্মনিরপেক্ষতাকে আঘাত করার চেষ্টা করছেন।’’ তাঁর কথায়, ‘‘এনআরসি হলে হিন্দু বাঙালির নাম কাটা যাবে কিনা, তা অসমের তালিকাই প্রমাণ করে দিয়েছে। সেখানে যে সাড়ে উনিশ লক্ষ মানুষের নাম কাটা গিয়েছে, তার বেশির ভাগটাই হিন্দু বাঙালির।” 

যদিও বিজেপির জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মার অভিযোগ, ‘‘তৃণমূল সরকার সঠিক সময়ে নথিপত্র যাচাই করে দেয়নি বলেই অসমে অনেক হিন্দু বাঙালীর নাম এনআরসির তালিকায় জায়গা পাননি।’’ তবে শেষ পর্যন্ত তাঁরা বাদ পড়বেন না বলে দাবি গঙ্গাপ্রসাদের।

দলের সাংগঠনিক নির্বাচন পর্ব শেষ হওয়ার পরই অসমের ধাঁচে আলিপুরদুয়ারে এনআরসি চালুর দাবিতে আন্দোলনে নামার কথা ঘোষণা করেন বিজেপির জেলা নেতৃত্ব। সায়ন্তন অবশ্য মনে করেন, “পশ্চিমবঙ্গ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ হওয়ার পরই এ রাজ্যে এনআরসি করা দরকার।” 

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন
বাছাই খবর

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন