• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বধূর গায়ে গরম জল ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা স্বামীর

টাকা চেয়ে প্রায়ই চলত মারধর। এবার স্ত্রীর গায়ে গরম জল ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ উঠলো স্বামীর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার রাতে পুরাতন মালদহের মঙ্গলবাড়ি গ্রামপঞ্চায়েতের মৌলপুর খাসপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ওই বধূ গুরুতর জখম অবস্থায় মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শুক্রবার সকালে আহত বধূর পরিবারের লোকজন মালদহ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকেই ফেরার অভিযুক্ত স্বামী।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই বধূর নাম রেহানা বিবি। অভিযুক্ত স্বামীর নাম আজাদ শেখ। তিনি  শ্রমিকের কাজ করেন। তাঁদের এক ছেলে এবং এক মেয়ে রয়েছে। আহত ওই বধূ বলেন, ‘‘প্রায় বাবার বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে আসার জন্য আমার উপরে চাপ সৃষ্টি করত স্বামী। এমনকি মারধরও করত। এ দিন ফের টাকা আনতে বলে। আমি অস্বীকার করলে ফুটন্ত গরম জল আমার গায়ের উপরে ঢেলে দেয়। আমি তাঁর শাস্তি দাবি করছি।’’ মালদহের পুলিশ সুপার সৈয়দ ওয়াকার রেজা বলেন, ‘‘পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত যুবকের খোঁজে তল্লাশি চলছে।’’

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর পাঁচেক আগে পুরাতন মালদহের সাহাপুরের রায়পুর গ্রামের বাসিন্দা রহিম শেখের মেয়ে রেহানার সঙ্গে বিয়ে হয় খাসপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আজাদ শেখের। আজাদ ইংরেজবাজার শহরে শ্রমিকের কাজ করে। তাঁদের একটি চার বছরের মেয়ে এবং এক বছরের  ছেলে রয়েছে। এ দিন রাত ন’টা নাগাদ আজাদ শেখ ও তাঁর স্ত্রীর মধ্যে বচসা শুরু হয়। সেই সময় ওই বধূ  ভাত রান্নার জন্য উনুনে জল গরম করছিলেন। প্রথমে আজাদ রেহানা বিবিকে মারধর করে এবং পরে গায়ে ফুটন্ত জল ঢেলে দেয়। বধূর চিৎকার শুনতে পেয়ে ছুটে আসে পড়শি ও আত্মীয় স্বজনরা। তারপরেই পালিয়ে যায় অভিযুক্ত আজাদ।

আহত অবস্থায় ওই মহিলাকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় মৌলপুর গ্রামীণ হাসপাতালে। তবে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাতেই ওই হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাঁকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বধূর শরীরের একাংশ পুড়ে গিয়েছে। যার জন্য শরীরের ক্ষত সারতে সময় লাগবে।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আজাদ শ্বশুর বাড়ির লোকেদের কাছে ৫০ হাজার টাকার দাবি জানিয়েছিল। এ দিন রাতে সেই টাকার জন্যই শুরু হয় অত্যাচার। প্রথমে চলে মারধর। তারপরেই ফুটন্ত গরম জল ঢেলে দেয় ওই বধূর গায়ে। আহত বধূর বাবা রহিম শেখ বলেন, ‘‘আমি দিন মজুরি করে সংসার চালাই। ধার দেনা করে মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলাম। তারপরেও টাকার জন্য মেয়ের উপরে অত্যাচার চালাত জামাই। মেয়ে ফোনে পুরো বিষয়টি জানিয়েছিল। এ দিন ও গায়ে গরম জল ঢেলে মেয়েকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন