• অনুপরতন মোহান্ত
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

জেলবন্দির মেয়েদের খোঁজ নেই

Letter
এই অভিযোগপত্রই জমা পড়েছে। নিজস্ব চিত্র

Advertisement

বাবা-মা খুনের মামলায় যাবজ্জীবন সাজা হওয়ার পরেই নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে তাঁদের দুই মেয়ে। সেই থেকে জেলবন্দি দম্পতি বারেবারে দুই মেয়েকে খুঁজে বার করে একটিবারের জন্য দেখা করানোর আবেদন করছেন। কিন্তু, প্রায় এক যুগ পেরোলেও সেই আবেদনে সাড়া মেলেনি। সাজাপ্রাপ্ত দম্পতির নাম নিতাই মালাকার ও মা ফরিদা মালাকার। দুজনে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধাগারে বন্দি।

চাইল্ড লাইন সূত্রের খবর, বাবা মায়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়ার পর প্রায় অনাথ দুই নাবালিকা বোন সারবানু এবং আরমিনা কিছু দিন পর নিখোঁজ হয়ে যায়। পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হয়। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সপার দেবাশিস নন্দী বলেন, ‘‘আত্মীয়দের তরফে ওই ঘটনায় নতুন করে অভিযোগ জানানো হলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’’

বালুরঘাটের পতিরাম লাগোয়া কুমারগঞ্জ থানার শ্যামগর এলাকার বাসিন্দা নিতাই ও তার স্ত্রী ফরিদা গত ২০০৬ সালে একটি খুনের মামলায় অভিযুক্ত হন। 

২০০৭ সালে বিচারে তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। তাঁদের দুই মেয়ে সারবানু (১৩) ও আরমিনা (১১) অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে। পতিরাম এলাকার বাসিন্দা সাজাপ্রাপ্ত নিতাইবাবুর ভাই নিমাই বলেন,  ‘‘দাদা ভিন ধর্মে বিয়ে করায় কোনও আত্মীয়স্বজন তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখেনি। এমনকি বৌদির (ফরিদা) বাবার বাড়ির লোকজনও মেয়ে দু’টির খোঁজ খবর নিতেন না বলে অভিযোগ। ফলে দাদা বৌদির সাজা হলে অসহায় ওই দুই নাবালিকা বোন এদিক সেদিক ঘুরে বেড়াত। ভিক্ষে করে খেয়ে না খেয়ে তাদের দিন কাটছিল। হঠাৎ ওই দুই নাবালিকা এলাকা থেকে উধাও হয়ে যায়।’’

জেলবন্দি বাবা নিতাইবাবু নিখোঁজ দুই মেয়েকে দেখতে চেয়ে সে সময় একাধিকবার জেল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। 

বহরমপুর জেল ঘুরে বর্তমানে নিতাইবাবু বালুরঘাট জেলে রয়েছেন। হারিয়ে যাওয়া মেয়েদের ফেরাতে তাঁর আর্জি নিস্ফলাই রয়ে গিয়েছে। সম্পর্কে কাকা নিমাইবাবু ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ফের বালুরঘাট থানায় লিখিত আবেদন করে নিখোঁজ ভাইঝিদের উদ্ধারের আবেদন জানান। কিন্তু জেলায় পুলিশ কর্তা থেকে থানার আইসি বদল হয়ে বছরের পর বছর কেটে গিয়েছে। নিখোঁজ সারবানু ও আরমিনার কোনও হদিশ এখনও মেলেনি।

জেলা চাইল্ড লাইনের কো অর্ডিনেটর সুরজ দাসের দাবি, ‘‘নিখোঁজ দুই বোনের বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে শোনা গিয়েছে এক মহিলা তাদের ফুঁসলে অন্যত্র নিয়ে গিয়েছে।’’ 

সেই মহিলার নামও পুলিশের কাছে পৌঁছেছে। সুরজ বলেন, ‘‘পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। দেখা যাক কী হয়!’’

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন