পাহাড়, সমতলের বিভিন্ন প্রান্ত প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত রয়েছে। উত্তরবঙ্গের অন্য প্রান্তের তুলনায় বৃষ্টি বাড়ছে সমতল শিলিগুড়িতে। গত ২৪ ঘণ্টা শিলিগুড়িতে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। শিলিগুড়ি থেকে কম সময়ে সরাসরি জাতীয় সড়ক ধরে কালিম্পং, গ্যাটংক যাওয়ার রাস্তা বিকেল পর্যন্ত বন্ধ ছিল। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে সিকিম, কালিম্পং যাওয়ার রাস্তাটি শুক্রবার ধস সরিয়ে পুরোপুরি সচল করা যায়নি। তবে সন্ধ্যার পর শ্বেতিঝোরায় একমুখী গাড়ি চলাচল করানো সম্ভব হয়েছে। পাথর-কাদা পেরিয়ে গাড়ি চলছে অত্যন্ত ধীরে। আজ, শনিবারও রাস্তা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলবে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার খুললেও এ দিন ফের ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে ধসের জেরে বন্ধ হয়েছে শিলিগুড়ি থেকে সেবক হয়ে ডুয়ার্স যাওয়ার পথ। 

তেমনিই ডুয়ার্স থেকে গরুবাথান, লাভা হয়ে কালিম্পং যাওয়ার আর একটি  বিকল্প পথও এখন ধস নেমে বন্ধ। শুধুমাত্র দার্জিলিং থেকে অনেক ঘুরপথে জোড়বাংলো, তিস্তাবাজার হয়ে কালিম্পং এবং সিকিম যাওয়ার রাস্তাটি এখন খোলা। দার্জিলিং, কার্শিয়াংয়েও কয়েকটি জায়গায় ধস নেমেছে। ভোগান্তি বাড়ছে সাধারণ মানুষ থেকে এ অঞ্চলে থাকা হাতেগোনা পর্যটকদের। কোথাও যেতে গেলে ঘুরপথে যেতে হচ্ছে, তাই গাড়িভাড়াও বেশি লাগছে। এ দিন ভোর থেকে জোর বৃষ্টির জেরে ধস সরানোর কাজ কার্যত করতেই পারেনি প্রশাসন। ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত দশটির মতো জায়গায় রাস্তায় ধস রয়ে গিয়েছে।

দার্জিলিঙের জেলাশাসক দীপাপ প্রিয়া বলেন, ‘‘আবহাওয়ার জন্য ধস সরানোর কাজে সমস্যা রয়েছে। তবুও রাস্তা খোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় কাজ চলছে।’’

বুধবার রাত থেকে ধস নেমে বন্ধ হয়েছিল ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের শ্বেতিঝোরা। এ দিন ২৯ মাইলেও নতুন করে ধস নেমেছে। আবার ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের গণেশঝোরা এবং মংপং-এ ধস নেমে রাস্তা বন্ধ হয়ে রয়েছে। বৃহস্পতিবার কালীঝোরা, সেবক কালীমন্দির, করোনেশন সেতুর কাছেও ধস নেমেছিল। সেগুলি পরিষ্কার করা হয়েছে। তার পরেই ছোট পাথর, কাদামাটি নেমে আসছে পাহাড়ের উপর থেকে। এই পরিস্থিতিতে সিকিম, কালিম্পঙের অন্যতম বিকল্প পথ ছিল গরুবাথান, লাভা হয়ে যাতায়াত। এ দিন সকালে ওই দুই জায়গাও ধসে বন্ধ হয়ে যায়। সিকিমের দিকে রংপো এলাকা থেকেও ধসের খবর মিলেছে।