• পার্থ চক্রবর্তী
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

অভিযুক্তদের বহিষ্কার তৃণমূলের

TMC
—ফাইল চিত্র।

Advertisement

তুষার বর্মণ খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত গ্রাম পঞ্চায়েত উপপ্রধান শম্ভু রায়, গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য সোনা রায় সহ চারজনকে দল থেকে ছেঁটে ফেলল তৃণমূল৷ রবিবার বিকেলে ওই চারজনকে বহিষ্কারের কথা ঘোষণা করেন দলের আলিপুরদুয়ার ১ ব্লক সভাপতি তথা জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি মনোরঞ্জন দে৷ একইসঙ্গে শম্ভু ও সোনার পঞ্চায়েত সদস্যের পদ খারিজের জন্য দল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি৷ তবে সপ্তাহ ঘুরতে চললেও শম্ভু এখনও গ্রেফতার না হওয়ায় রীতিমতো ক্ষোভে ফুঁসছে তপসিখাতা৷
গত মঙ্গলবার তপসিখাতায় খুন হন তৃণমূল কর্মী তুষার বর্মণ৷ অভিযোগ, তাঁর দূরসম্পর্কের এক ভাইকে জয় বাংলা হাটের একটি মদের দোকানে আটকে রেখে মারধর করা হচ্ছে খবর পেয়ে রাতে সেখানে ছুটে গেলে পরোরপাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল উপপ্রধান শম্ভু রায়, তৃণমূলেরই গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য সোনা রায়-সহ চারজন তুষার সহ তাঁর ভাইকে মারধর করে৷ শম্ভু তাঁর উপর গুলি চালিয়ে দেয় বলে অভিযোগ৷
ঘটনার পর থেকেই শম্ভুর গ্রেফতারের দাবিতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়াতে শুরু করে৷ দলের ব্লক শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের মদতেই এলাকায় শম্ভুদের এতো দাপট বলেও অভিযোগ উঠতে শুরু করে৷ খোদ দলের কর্মী-সমর্থকদের একাংশও এমন অভিযোগে সরব হওয়ায় অস্বস্তি বাড়ে জেলা নেতৃত্বের৷ তৃণমূল সূত্রের খবর, এরপরই অভিযুক্ত চারজনকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু হয়৷
এ দিন বিকেলে তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার জেলা অফিসে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে বৈঠকে বসেন দলের ব্লক শীর্ষ নেতারা৷ ওই বৈঠকেই স্থানীয় নেতা-কর্মীরা শম্ভুদের বহিষ্কারের দাবিতে সরব হন৷ তারপরই ব্লক নেতৃত্ব বহিষ্কারের কথা ঘোষণা করেন৷ মনোরঞ্জনবাবু বলেন, “তৃণমূল মানুষ মারার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেনা৷ তাই শম্ভু, সোনারা যে কাজ করেছে তা মানা যায়না৷ সেজন্যই ওই দু’জন-সহ অভিযুক্ত আরও দু’জন— বিদ্যুৎ রায় ও অরবিন্দ বর্মণকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ দলের জেলা নেতৃত্বের অনুমতি নিয়েই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত৷” 
তবে ঘটনার পর সপ্তাহ ঘুরতে চললেও শম্ভু গ্রেফতার না হওয়ায় এলাকায় ক্ষোভ থামছে না৷ তুষার খুনের পর থেকেই এলাকায় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের নেতৃত্বে শম্ভুর গ্রেফতারের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিলেন বাসিন্দারা৷ বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ার-ফালাকাটা রাজ্য সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ চলাকালীন পুলিশের তরফে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শম্ভু-সহ বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতারের আশ্বাস দেওয়া হয়৷ কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও শম্ভুরা গ্রেফতার না হওয়ায় শনিবার রাতে এলাকায় ফের মিছিল করেন স্থানীয়রা৷ রাতেই শম্ভু-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তৃণমূলের এক শিক্ষক নেতাকে নিগ্রহ করা হয় বলেও অভিযোগ। রবিবার আন্দোলনের আঁচ এসে পড়ে আলিপুরদুয়ার শহরেও৷ সন্ধ্যায় বিবেকানন্দ কলেজ থেকে আলিপুরদুয়ার চৌপথি পর্যন্ত মোমবাতি মিছিল হয়৷
শম্ভুদের দল বহিষ্কার করার কথা ঘোষণা করলেও, তাদের গ্রেফতার না হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক চক্রান্তের অভিযোগও তুলতে শুরু করেছেন তুষারের পরিজনেরা৷ তুষারের জ্যাঠামশাই অরুণচন্দ্র বর্মণের অভিযোগ, “আমাদের সন্দেহ, তৃণমূল নেতাদের অঙ্গুলিহেলনিতেই পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতারে তৎপর নয়৷”
যদিও তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার- ১ ব্লক সভাপতি মনোরঞ্জনবাবু বলেন, “আমরা চাই অবিলম্বে অভিযুক্ত প্রত্যেককে পুলিশ গ্রেফতার করে কড়া শাস্তি দিক৷ প্রথম থেকেই পুলিশকেও আমরা সেটা বলেছি৷”  
বিষয়টি নিয়ে আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার সুনীল যাদবের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি৷ এসএমএস-এরও উত্তর দেননি৷

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন