উত্তর দিনাজপুর জেলা লাগোয়া বিহারের কিসানগঞ্জ আসনে তৃণমূলের হয়ে দাঁড়াচ্ছেন তৃণমূল প্রার্থী জাভেদ আখতার। মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের ৪২ আসনের প্রার্থীর সঙ্গে অন্য রাজ্যের প্রার্থীদের নামও ঘোষণা করেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখনই বিহারের কিসানগঞ্জ আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন।
কিন্ত প্রার্থী খবর পেলেন এক দিন পরে। বুধবার জরুরি তলব পেয়ে জাভেদ কলকাতা পৌঁছন। বুধবার জাভেদ বলেন, ‘‘মঙ্গলবার নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জাভেদ আখতারের জায়গায় ভুল করে জাভেদ খান ইসলাম বলেছিলেন। আর এই নিয়ে আমি কিছুই বুঝতে পারিনি। বুধবার সকালে পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফোনে আমাকে জানান, মন্ত্রী আমার কথাই বলেছেন।’’ জাভেদ জানান, শুভেন্দু তাঁকে দ্রুত কলকাতায় চলে যেতে বলেন। জাভেদের কথায়, ‘‘শুভেন্দুবাবুর এই ফোন আমার কাছে ছিল সারপ্রাইজ। নেত্রী আমাকে যোগ্য মনে করেছেন আমি গর্বিত।’’
উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর থানার ধনতলার বাসিন্দা জাভেদ দলের রাজ্য কোর কমিটির সদস্য। ১৯৯৮ সাল থেকে তিনি তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত। ২০০৩ সালে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালে জেলা পরিষদের সদস্য হন। ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে তাঁর আসনে জয়ী হন তাঁর স্ত্রী ফারহাত বানু। বর্তমান জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি ফারহাত।

 দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 


জাভেদ এক সময় তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী করিম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তৃণমূল সূত্রে খবর, ২০১৪ সালে উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদে সিপিএমের বোর্ডকে ভেঙে তৃণমূলের দখলে নিয়ে আসার মূল কারিগর ছিলেন জাভেদই। ডালখোলায় কংগ্রেসের বোর্ডকে ভেঙে কাউন্সিলারদের তৃণমূলের নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তিনি। তিনি চাকুলিয়ার ফরওয়ার্ড ব্লক বিধায়ক আলি ইমরান রমজের সম্পর্কে  মামা।
তৃণমূলের জেলা সভাপতি অমল আচার্য বলেন, ‘‘জাভেদের কিসানগঞ্জে আদি বাড়ি। এলাকায় ভাল জন সংযোগ রয়েছে। হিন্দি এবং উর্দু ভাষার উপর দখল রয়েছে। একজন সুবক্তা ও সাংগাঠনিক।’’ কিসানগঞ্জে গত বার জয়ী হয়েছিলেন মৌলানা আখাতারুল ইমাম। তিনি মাস তিনেক আগে প্রয়াত হয়েছেন। বিহারে কংগ্রেসের সঙ্গে লালু প্ৰসাদের দল আরজেডির জোট হয়েছে। এই কেন্দ্রে এ বার কংগ্রেস প্রাথী দেবে। কিসানগঞ্জের আরজেডি নেতা শাকির আলম বলেন, ‘‘কিসানগঞ্জে তৃণমূলের কোনও প্রভাব নেই। লাভ কিছু হবে না।’’
তবে জাভেদ আখতারকে কিসানগঞ্জে প্রার্থী করা নিয়ে ইসলামপুর এলাকায় আলোড়ন পড়েছে।

তৃণমূলের উত্তর দিনাজপুর জেলায় দলীয় কোন্দল রয়েছে। ভোটে সেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কানাইয়ালাল আগরওয়ালকে বেগ দিতে পারত বলে কেউ কেউ মনে করেন। সেই আশঙ্কা দূর করতেই কি জাভেদ আখতারকে বিহারের কিসানগঞ্জ প্রাথী করা হল? এই প্রশ্ন উঠছে দলের অন্দরে।