আগাগোড়া অর্পিতাকে ‘আড়াল’ অভিষেকের
অর্পিতাকে দ্বিতীয়বার বালুরঘাটে দাঁড় করানোয় ক্ষোভ জানিয়েছিলেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূলের একটা বড় অংশ।
abhishek

সভা: কুশমণ্ডির সভায় বালুরঘাটের তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষের সঙ্গে অভিষেক। —নিজস্ব চিত্র

এসেছিলেন দলীয় প্রার্থী অর্পিতা ঘোষের হয়ে ভোটপ্রচারে। কিন্তু মঞ্চে দাঁড়িয়ে যত না ভোট চাইলেন, তার চেয়েও বেশি অর্পিতাকে ‘আড়াল’ করে গেলেন আগাগোড়া। 

অর্পিতাকে দ্বিতীয়বার বালুরঘাটে দাঁড় করানোয় ক্ষোভ জানিয়েছিলেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূলের একটা বড় অংশ। সেই ক্ষোভ কৌশলে সামাল দিয়েছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়া, সাংসদ হিসেবে জেলার উন্নয়ন ও কাজকর্মে অর্পিতার ভূমিকা নিয়েও যে একাধিক অভিযোগ রয়েছে, তা বিলক্ষণ জানেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৭ সালে বন্যার সময়ে অর্পিতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, তিনি বন্যা-বিধ্বস্ত জেলাবাসীর পাশে দাঁড়াননি। আরও অভিযোগ, অর্পিতা জেলায় বেশি থাকেনই না। এই নির্বাচনে এই বিষয়টি যে বিরোধীরা ‘অস্ত্র’ করেছে, তা বুঝতে পেরেই তাঁকে আগাগোড়া আড়াল করে গেলেন যুব তৃণমূলের সভাপতি। এ দিন তিনি বলেন, ‘‘বন্যার সময়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক হাঁটু জলে নেমে এলাকা পরিদর্শন করেছেন। রাজ্যের ইতিহাসে কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে আজ পর্যন্ত এক হাঁটুজলে নামতে দেখা যায়নি। কিন্তু আমাদের মুখ্যমন্ত্রী নিজে এ ভাবেই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বন্যার সময় আমরা মোদীর কাছে ফান্ড চেয়েছিলাম। কিন্তু ওঁরা সেটা দেননি। আমাদের প্রার্থী অর্পিতা এসেছিলেন।’’ যদিও বিজেপি তৃণমূলের জেলা সভাপতি শুভেন্দু সরকার বলেন, ‘‘বন্যার সময়ে মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী সেটা বুঝতে পেরে আমাদের জেলার সীমানায় এসে ছবি তুলে চলে গিয়েছিলেন। অর্পিতাও আসেননি, মুখ্যমন্ত্রীও আসেননি।’’

বৃহস্পতিবার কুশমণ্ডির হাড়াহার মাঠের এই জনসভায় অভিষেক বলেন, ‘‘অর্পিতা সংসদে ভাল কাজ করেছেন। বালুরঘাটে প্রতি সপ্তাহেই ছুটে আসেন। সারাক্ষণ বালুরঘাটের মানুষের জন্য কাজ করেছেন। তাই অর্পিতাকে ভোট দিন। তারপরে আমার থেকে উন্নয়ন বুঝে নেবেন। আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি, আগামী পাঁচ বছরে দ্বিগুন উন্নয়ন করব।’’ প্রার্থী অর্পিতাকে নিয়ে জেলায় তৃণমূলের অন্দরেই দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। খোদ জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্র ‘অর্পিতাকে জেতানো সম্ভব হবে না’ বলে দাবি করেছিলেন। তার প্রভাব যাতে ভোটে না পরে সেই উদ্দেশেই অভিষেক বারবার অর্পিতাকে এই জেলার কাছের মানুষ হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছেন, অভিষেকের বক্তব্যেই তা স্পষ্ট হয়েছে বলে রাজনৈতক মহলের দাবি। 

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

তাই অভিষেক দাবি করেন, ‘‘যে সমীক্ষা যা-ই বলুক না কেন, বালুরঘাট থেকে অর্পিতা ঘোষ দুই লক্ষের বেশি ভোটে জিতবেন।’’ যদিও বিজেপির জেলা সভাপতির দাবি, "তৃণমূল এবার দু’লক্ষ ভোট পাবে কিনা সেটা আগে নিশ্চিত করুক।’’ এ দিনের সভা থেকে অভিষেক মূলত বিজেপিকেই আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘দেশের ২৮টি রাজ্যের টাকার বিনিময়ে গেরুয়া হতে পারে। কিন্তু বাংলা কখনই গেরুয়া হবে না। হারলে গ্যাসের দাম, পেট্রলের দাম, ডিজেলের দাম, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমবে।’’ আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের ভোট নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূলের এই যুবনেতার দাবি, ‘‘এই দু’টি আসনে আমরা দশ গোল দিয়ে ২-০ করে দিয়েছি। এখন বাকি ৪০-এ ৪০ করব।’’