ভোট শেষ হতেই দ্বন্দ্ব, বোমাবাজি 
আহতদের মধ্যে রয়েছে পাঁচ বছরের এক শিশু এবং কয়েকজন কিশোর। ঘটনাটিকে অবশ্য দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জের বলে মানতে নারাজ তৃণমূলের একাংশ।
Injury

জখম: ভগবানপুরে আহতরা সামসি হাসপাতালে। নিজস্ব চিত্র

নির্বাচনের পর রাত পোহাতেই বোমাবাজি। তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর বোমাবাজিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠল মালদহের রতুয়া থানার সামসি লাগোয়া ভগবানপুর এলাকা। বুধবার সকালে ওই ঘটনায় আহত হয়েছেন দু’পক্ষের ১০ জন। এছাড়া, সংঘর্ষে আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাঁদেরকে সামসি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। ঘটনার জেরে গোটা এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। 

ওই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে আগেও একাধিকবার বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, এ দিন সকালে তৃণমূলের স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য আব্দুস সাত্তার ও স্থানীয় নেতা নজরুল ইসলামের দলবল একে অন্যকে লক্ষ্য করে বোমাবাজি শুরু করে। আহতদের মধ্যে রয়েছে পাঁচ বছরের এক শিশু এবং কয়েকজন কিশোর। ঘটনাটিকে অবশ্য দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জের বলে মানতে নারাজ তৃণমূলের একাংশ। নজরুলকে কিছুদিন আগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে দলের একাংশের দাবি। এবার তিনি কংগ্রেসের হয়ে কাজ করছিলেন বলেও দলের ওই অংশের অভিযোগ। এ দিন বোমাবাজির পর নজরুলকে গ্রেফতারের দাবিতে ফাঁড়িতে গিয়ে বিক্ষোভও দেখায় তৃণমূলের একাংশ। যদিও নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়নি বলে বিপক্ষ গোষ্ঠীর দাবি। চাঁচলের এসডিপিও সজলকান্তি বিশ্বাস বলেন, ‘‘পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। সব খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।’’

দলীয় সূত্রে খবর, এলাকায় কর্তৃত্ব বজায় রাখতে সাত্তার ও নজরুলের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিবাদ। সাত্তার রতুয়া-১ ব্লক কমিটির চেয়ারম্যান মহম্মদ হেসামুদ্দিনের ও নজরুল ব্লক সভাপতি ফজলুল হকের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। সাত্তার ও নজরুল আবার একে অপরের আত্মীয়ও। যদিও টিকিট পেয়ে জয়ী হন সাত্তার। আবার কয়েকমাস আগে মাদ্রাসা পরিচালন সমিতির প্রার্থীপদ দেওয়াকে ঘিরেও দু’পক্ষের বোমাবাজিতে ১৫ জন আহত হন।

হেসামুদ্দিন বলেন, ‘‘নজরুলকে আগেই বহিষ্কার করা হয়েছিল। ও-ই এ দিন হামলা করেছে। ও কংগ্রেস করে।’’ যদিও নজরুলকে বহিষ্কার করা হয়নি বলে দাবি ফজলুলের। তবে এতে রাজনীতি নেই বলে দাবি করেছেন নজরুল। তিনি বলেন, ‘‘আমি তৃণমূলই করি। ওরাই হামলা চালিয়ে আমার স্ত্রীর হাত ভেঙেছে। বোমায় আমার দুই মেয়েও আহত।’’ সাত্তারের পাল্টা দাবি, ‘‘ওরাই বোমা নিয়ে হামলা করেছে। আমাদের সাতজন আহত।’’