কোনও গাছের গায়ে লোহার পেরেক পুঁতে লাগানো হয় দলের পতাকা। কোনও গাছে আবার গজাল দিয়ে লাগিয়ে দেওয়া হয় দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে ব্যানার, হোর্ডিং। ভোটের মরসুমে কোচবিহার তো বটেই, উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই কম-বেশি এমন অভিযোগের ঘটনা নতুন নয়। এ বার লোকসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই তাই সবুজ জখমের আশঙ্কায় উদ্বেগ বেড়েছে পরিবশপ্রেমী মহলে। ওই আশঙ্কা এড়াতে এ বার আগেভাগেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলির কাছে চিঠি দিয়ে আর্জি জানানোর কথা ভাবছেন তাদের অনেকে। সোশ্যাল মিডিয়াতে ইতিমধ্যে ওই আর্জি জানিয়েছে একটি সংগঠন। বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, সবুজ রক্ষার ওই উদ্যোগ ভাল। সচেতনতাও বাড়ানো দরকার।

কোচবিহারের পরিবেশপ্রেমী সংস্থা ন্যাস গ্রুপের সম্পাদক অরূপ গুহ বলেন, “গাছের প্রতি ভালবাসা দরকার। ওই ব্যাপারে বিভিন্ন কর্মসূচিও হয়। ভোটের সময় প্রচারের কোনও কারণে যাতে সবুজ জখম না হয় তা দেখতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের কাছে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করা হবে।” মাউন্টেনিয়ার্স ক্লাবের সদস্য অমিত চন্দ বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এ নিয়ে আবেদন জানিয়েছি।”

যুযুধান রাজনৈতিক শিবিরের নেতারা অবশ্য সবুজ জখম করে প্রচার হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, “গাছের ক্ষতি করে কোনও ভাবে পেরেক পুঁতে আমরা কোনও ব্যানার, হোর্ডিং লাগানো হবে না। আগেও সেরকম হয়নি।” বিজেপির কোচবিহার জেলা সভানেত্রী মালতি রাভা বলেন, “পরিবেশপ্রেমীদের ওই ভাবনা নিঃসন্দেহে ভাল। আমরা বরাবর পরিবেশের ক্ষতি না করে স্বচ্ছতা বজায় রেখেই প্রচার করি।” ফরওয়ার্ড ব্লক ও কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, তাঁরাও গাছ রক্ষায় যত্নবান। ফরওয়ার্ড ব্লকের জেলা সম্পাদক অক্ষয় ঠাকুর বলেন, “গাছের ক্ষতি যাতে না হয় সেটা সব সময়েই দেখা হয়। এ বারেও হবে।” 

কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা সভাপতি শ্যামল চৌধুরী বলেন, “প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় আমরা সব সময় গুরুত্ব দিয়ে থাকি। এ বারেও সেটা মাথায় রেখেই প্রচারের কাজ করা হবে।”

 দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

বিরোধীদের প্রায় এক সুরে অভিযোগ, দৃশ্যদূষণ যাতে না হয় সেদিকেও সতর্ক নজর রাখা দরকার। কিছুদিন আগে তৃণমূলের একটি কর্মসূচি ঘিরে হোর্ডিং, ব্যানারে দৃশ্যদূষণের অভিযোগও তুলেছিল তারা। তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য ওই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে আগেই উড়িয়ে দেন। তাঁদের পাল্টা তির বিরোধীদের দিকে। পরিবেশপ্রেমীদের একাংশের বক্তব্য, দায় নিয়ে চাপানউতোর নয়। সবুজ রক্ষায় সবার উদ্যোগ দরকার।