বিনয়কেই চায় মোর্চা, তৃণমূল
মোর্চা সূত্রে জানা গিয়েছে, দলের বিভিন্ন শাখা সংগঠনের সঙ্গেও প্রার্থী নিয়ে আলোচনা করেছেন মোর্চার কেন্দ্রীয় নেতারা। বেশিরভাগ শাখা নেতৃত্বই বিনয়ের নাম প্রস্তাব করেছেন।
Mamata

মমতার-সঙ্গে: ফাইল চিত্র

নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে বিমল গুরুংপন্থীরা। বিজেপি ও বিমলপন্থীদের সঙ্গে জোট করে শক্তিশালী হচ্ছে জিএনএলএফ-ও। তাই রাজ্যের শাসকদল সঙ্গে থাকলেও পাহাড়ে একচ্ছত্র আধিপত্য নেই বিনয়পন্থীদের। এই ‘কঠিন সময়ে’ সেনাপতি বিনয় তামাংকে প্রার্থী করেই দার্জিলিং বিধানসভা উপনির্বাচনে লড়তে চাইছে মোর্চা। মোর্চা সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী নিজেও চাইছেন বিনয় দার্জিলিংয়ে প্রার্থী হোক। জিতলে বিনয় মন্ত্রিত্ব বা রাজ্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন বলেও মুখ্যমন্ত্রীর তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, জানিয়েছেন মোর্চার কেন্দ্রীয় নেতাদের একাংশ। সেটা হলে পাহাড়ের উন্নয়ন আরও তরান্বিত হবে, এমন কথা ইতিমধ্যেই প্রচার করছে মোর্চার একটি অংশ। 

মোর্চা সূত্রে জানা গিয়েছে, দলের বিভিন্ন শাখা সংগঠনের সঙ্গেও প্রার্থী নিয়ে আলোচনা করেছেন মোর্চার কেন্দ্রীয় নেতারা। বেশিরভাগ শাখা নেতৃত্বই বিনয়ের নাম প্রস্তাব করেছেন। যদিও বিনয় নিজে এখনই এই নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাতে নারাজ। আবার তিনি প্রার্থী হতে পারেন, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। উপনির্বাচন নিয়ে রবিবার রাতে দুর্গাপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তিনি ও অনীত থাপা বৈঠক করেছেন। এ দিন বিনয় বলেন, ‘‘দল ও পাহাড়ের স্বার্থে যদি লড়াই করতে হয়, তা হলে লড়ব। এখনও প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি। আমরা মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ নিয়েছি। দু-এক দিনের মধ্যেই দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ও দার্জিলিং মহকুমা কমিটির বৈঠক করে সিদ্ধান্ত জানাব।’’

পাহাড় তৃণমূলের নেতাদের কেউ কেউ বলছেন, বিনয়ের মতো শক্তিশালী প্রার্থী না হলে দার্জিলিং কেন্দ্রে থাবা বসাতে পারে বিরোধীরা। যে হেতু দার্জিলিং থেকেই নিয়ন্ত্রিত হয় পাহাড়ের রাজনীতি, তাই একবার দার্জিলিং হাতছাড়া হলে তা পুনরুদ্ধার করা খুবই কঠিন হবে। সে ক্ষেত্রে অনেকটাই পিছিয়ে যেতে পারে রাজ্য সরকার বা জিটিএ-র উন্নয়ন পরিকল্পনা রূপায়ণের কাজ। 

বিনয় শিবির হেরে গেলে পাহাড়ে বেকায়দায় পড়তে পারে তৃণমূলও। পাহাড় তৃণমূলের সভাপতি এলবি রাই বলেন, ‘‘বিনয় প্রার্থী হলে ভালই হবে। আমাদের দলের সিদ্ধান্ত অনুসারে আমরা সর্বশক্তি দিয়ে প্রার্থীকে জেতাতে কাজ করব।’’ বিনয় ভোটে জিতে এলে পাহাড়ের দ্বিগুণ লাভ হবে বলেই মনে করছেন মোর্চার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কেশবরাজ পোখরেল। তিনি বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী আমাদের জানিয়েছেন দার্জিলিঙের বিধায়ককে ক্যাবিনেটে বা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হবে। আমরা পাহাড়ের মানুষকে বোঝাচ্ছি, বিনয় তামাং জিতে মন্ত্রী হলে সরাসরি পাহাড়ে রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি থাকবে। ঘরে ঘরে সেই কথা পৌঁছে দেওয়ার জন্যই প্রচার পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে।’’ 

২০১৪ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত