কোথাও বাধা, কোথাও নেই, সীমান্তে জীবন যে রকম
রুটিরুজি ওপার দিচ্ছে, বাকিটা এ পার দিক
ভোটে এলাকার চিত্রটা একটু পাল্টে যায়৷
border

প্রতীকী ছবি।

এপারে ভোট। কিন্তু যত চিন্তা যেন পড়ে রয়েছে ওপার-কে নিয়ে।

“হবে না-ই বা কেন বলুন তো! আমাদের রুটি-রুজির ভরসা তো ওপারই৷”—বলছিলেন আজগর আলি৷ যাঁর আদি বাড়ি ফালাকাটায়৷ কিন্তু বেশ কয়েক বছর আগে পরিবার নিয়ে ভুটান সীমান্ত লাগোয়া আলিপুরদুয়ারের জয়গাঁয় একটি বাড়িতে ভাড়া নেন৷ প্রতিদিন সকাল যান ভুটানের ফুন্টশেলিংয়ে৷ বিকালে ফিরে আসেন৷ তবে ভোটের জন্য টানা দুই-তিনদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বন্ধ থাকে ভুটান গেট৷ অতএব বন্ধ থাকে কামাই৷ কিন্তু কাজ করতে ভুটানে যাওয়া কেন? উত্তরে আজগর বললেন, “এ দিকে সারাদিন কাজ করে যে টাকা আয় হয়, ভুটানে একই কাজ করে অন্তত দু-আড়াইশো টাকা বেশি পাই৷” ঠিক এই কারণেই জয়গাঁতে মানুষের বসবাস বাড়ছে বলে অনেকের দাবি৷ জয়গাঁ মূলত উত্তরবঙ্গের দ্বিতীয় ‘বাণিজ্য শহর’ হিসাবেই পরিচিত৷ খাতায় কলমে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস হলেও বাস্তবে বাস করেন তারও প্রায় দশগুণ বেশি মানুষ৷ পুলিশ প্রশাসনের হিসেব অন্তত এমনই৷ রয়েছেন ভুটান ও নেপালের নাগরিকও৷ 

ভোটে এলাকার চিত্রটা একটু পাল্টে যায়৷ স্থানীয় ব্যবসায়ী বিকাশ আগরওয়ালের কথায়, “জয়গাঁর ব্যবসা ভুটানের উপর নির্ভরশীল৷ ভুটানের ক্রেতারা জিনিস কিনতে আসেন৷ ফলে এ দিকে রাজনীতির তাপ-উত্তাপ বাড়লে ওপার থেকে ক্রেতা আসা কমে যায়৷”

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

জয়গাঁ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রামাশঙ্কর গুপ্তা বলেন, “শুধু ব্যবসা নয়, গোটা জয়গাঁর অর্থনীতিটাই ভুটানের উপর নির্ভর করে৷ ভোটের সময় ঝুট-ঝামেলার ভয়ে সেখানকার নাগরিকরা এদিকে আসা কমিয়ে দিলে রোজগার মার খায়৷” জয়গাঁয় রমরমিয়ে চলছে ভুটানের নোট৷ কম দামে পেট্রোল পাওয়া যায়, তাই এপার থেকে ওপারের পাম্পে গাড়ি নিয়ে চলে যাচ্ছে অনেক চালক৷ কিন্তু এতে তো দেশের অর্থনীতি মার খাচ্ছে? মানতে নারাজ বাণিজ্য নগরের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা৷ তাঁদের কথায়, প্রতিদিনই তাঁরা ভুটানের ব্যঙ্কে গিয়ে সেই নোট ‘এক্সচেঞ্জ’ করে আসছেন৷

তবে এবার একটু পরিবর্তন চান স্থানীয়রা৷ রামাশঙ্করের কথায়, ভুটানের উপর নির্ভর করে এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান নিয়ে কোনও সমস্যা নেই৷ কিন্তু এলাকাটার সার্বিক একটা উন্নয়ন তো প্রয়োজন৷ স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় রাস্তা চওড়া করার কোনও উদ্যোগ নেই৷ নেই নিকাশি ব্যবস্থা৷ হয় না সাফাই৷ যানজট হলেও, নেই তা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা৷ সেইসঙ্গে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী বা চোরাচালান নিয়েও অনেক সময় এই সীমান্ত এলাকায় অভিযোগ ওঠে৷ এগুলিও বন্ধ হোক চান তাঁরা৷ স্থানীয়দের কথায়, রুটিরুজি তো ওপার দিচ্ছে৷ বাকিটা অন্তত এপার দিক৷