অর্পিতা-সুকান্তের সৌজন্য
মঙ্গলবার সকালে শুরুতেই জেলা জুড়ে প্রচুর বুথে ইভিএম বিকল হয়ে পড়ায় ভোট গ্রহণের কাজ ব্যাহত হয়। বেশ কয়েকটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবি জানিয়ে তালা দিয়ে দেন এলাকার মানুষ। পরে অবশ্য স্বাভাবিক ভাবেই ভোট শুরু হয়েছে।
Arpita

সাক্ষাৎ: অর্পিতা ও সুকান্ত। নিজস্ব চিত্র

দিনভর বিক্ষিপ্ত অশান্তি ও উত্তেজনার মধ্যে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট লোকসভার ভোট শান্তিপূর্ণ ভাবে শেষ হল। দিনের শেষে যুযুধান দুই প্রার্থী তৃণমূলের অর্পিতা ঘোষ ও বিজেপির সুকান্ত মজুমদারের সৌজন্যও দেখলেন বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার সকালে শুরুতেই জেলা জুড়ে প্রচুর বুথে ইভিএম বিকল হয়ে পড়ায় ভোট গ্রহণের কাজ ব্যাহত হয়। বেশ কয়েকটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবি জানিয়ে তালা দিয়ে দেন এলাকার মানুষ। পরে অবশ্য স্বাভাবিক ভাবেই ভোট শুরু হয়েছে।

শেষ বেলায় কুশমণ্ডি প্রাথমিক স্কুলের বুথে বুথ-দখলের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ নিয়ে মুখোমুখি বচসায় জড়ান তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ও বিজেপি প্রার্থী সুকান্ত মজুমদার। গোটা ভোট প্রচারের মরসুমের শেষ দিনে অর্পিতা-সুকান্তের সৌজন্যের বিনিময়ের মধ্যে শেষ হয় ভোটদান পর্ব। সুকান্ত অর্পিতাকে তাঁর বাড়িতে যাওয়ার নিমন্ত্রণ করেন। অর্পিতা বলেন, ‘‘তুমি এক দিন এসো। তারপর যাব এক দিন।’’

বালুরঘাট লোকসভার তপন থানার ব্রজাপকুর এলাকায় এদিন ফের সংঘর্ষে এক বিজেপি কর্মী জখম হন। ইটাহারের চাকলাঘাট এলাকায় বোমাবাজি হয়। বিজেপির অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। তাদের দাবি, বোমার আঘাতে তিন বিজেপি কর্মী জখম হয়ে রায়গঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি। এরপরেই হরিরামপুরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ তোলা হয়। অর্পিতার ছবি দেওয়া ভোটার স্লিপ দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি। কুশমণ্ডির চাঁদপুরের একটি বুথে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে দ্রুত কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তৃণমূলের অভিযোগ,  তাদের কর্মী রঞ্জিত মণ্ডলকে হাঁসুয়া দিয়ে কোপ মেরেছে বিজেপির লোকেরা। পাল্টা অভিযোগ তুলে বিজেপির দাবি,  আচমকা লাঠি সোটা নিয়ে তাদের উপরে চড়াও হয় তৃণমূল। বালুরঘাট শহরের নামাবঙ্গি এলাকায় বিজেপির এক পোলিং এজেন্টকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল।

গঙ্গারামপুরে ৫৪ নম্বর বুথে বিজেপি প্রার্থী সুকান্ত মজুমদারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সুকান্ত অভিযোগ করেন,  ‘‘বুথের ৫ মিটারের মধ্যে ভোটারদের নিয়ে তৃণমূলের পতাকা লাগানো টোটো ঢুকছে। প্রতিবাদ করতেই কেন্দ্রীয় বাহিনী তা খুলে দেয়। তৃণমূলের লোকেরা হুমকি দিয়ে সরে যেতে বলেন।’’ অর্পিতা বলেন, ‘‘কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া জেলায় শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে।’’