এক দিকে ধর্মীয় রীতি। অন্যদিকে দলের নির্দেশ। রমজানে এই তিন-চারটে দিন দু’টোই সমান ভাবে পালন করছেন ওঁরা। 

লোকসভা নির্বাচনের বুথফেরত সমীক্ষার সম্ভাব্য ফল বেরনোর পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইভিএমে কারচুপির আশঙ্কা করেছেন। ভোটগণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি দলের কাউন্টিং এজেন্টদের গণনাকেন্দ্র পাহারার নির্দেশ দিয়েছেন। নেত্রীর ওই নির্দেশ মেনে মালদহ কলেজে পাহারায় বসে পড়েছেন মহম্মদ হাসানুরজ্জমান, কাইয়ুম শেখরা। রমজান মাসে রোজা চলাকালীনই পালা করে তাঁরা স্ট্রংরুম চোখে চোখে রাখছেন। তাঁদের সাহায্য করছেন মিঠু দাসেরাও। শুধু তাঁরাই নন, খোদ মালদহ উত্তরের প্রার্থী মৌসম নুরও নেত্রীর নির্দেশে রোজ অন্তত একবার করে সাতটি বিধানসভার স্ট্রংরুমগুলি ঘুরে দেখে আসছেন। মঙ্গলবারও সন্ধেতেও যান তিনি। একই ছবি মালদহ পলিটেকনিক কলেজে মালদহ দক্ষিণ আসনের স্ট্রংরুমের মূল প্রবেশপথের সামনেও। রোজা করলেও সেখানে পালা করে ২৪ ঘণ্টা পড়ে রয়েছেন তৃণমূলকর্মী হাসান রাজা, মিজানুর রহমান, মনিরুল ইসলামরা। সন্ধে নাগাদ প্রতিদিনই গিয়ে স্ট্রংরুম ঘুরে দেখছেন দলীয় প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন। তবে শুধু তৃণমূলই নয়, স্ট্রংরুমের মূল গেটের বাইরে বসে কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিএমের কর্মীরাও। 

কাল, বৃহস্পতিবার লোকসভা নির্বাচনের ভোটগণনা। মালদহ উত্তর আসনের গণনা মালদহ কলেজে ও মালদহ দক্ষিণের গণনা মালদহ পলিটেকনিক কলেজে। সংশ্লিষ্ট কলেজগুলিতেই রয়েছে স্ট্রংরুম। এ দিন দুপুরে মালদহ কলেজের স্ট্রংরুমের সামনে গিয়ে দেখা গেল, স্ট্রংরুমের মূল গেটে কড়া প্রহরায় বিএসএফের জওয়ানরা। তার ঠিক বাইরেই বসে তিন দলের তিন প্রতিনিধি। তাঁদের চোখ পাশেই সিসি ক্যামেরার ডিসপ্লে বোর্ডে। তৃণমূলকর্মী মহম্মদ হাসানুরজ্জমান বলেন, “দলনেত্রীর নির্দেশের আগে থেকেই আমরা তিনজন কর্মী ৮ ঘণ্টা করে রোজ স্ট্রংরুমের বাইরে পাহারায় রয়েছি।” 

বিজেপির কর্মী শঙ্কর মণ্ডল বলেন, “আমরাও তিনজন দলীয় কর্মী পালা করে স্ট্রংরুমের বাইরে থাকছি। সিসি ক্যামেরায় সবসময় নজর রাখতে হচ্ছে।” কংগ্রেস কর্মী রাজকুমার কর্মকার বলেন, “আমরা তিনজন দলীয় কর্মী গত ১০ দিন ধরে স্ট্রংরুমের বাইরে নজরদারিতে রয়েছি।” এদিন দুপুরে গণনা কেন্দ্রের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন মালদহ উত্তরের রিটার্নিং অফিসার অশোককুমার মোদক। তিনি জানালেন, “স্ট্রংরুম কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারিতে রয়েছে। প্রশাসনিক নজরদারিও থাকছে।”