কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় স্ত্রীকে বাস থেকে নামিয়ে পালিয়ে গেলেন স্বামী। এরপর স্বামীর খোঁজ না পেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে ঘুরছেন মলি দাস নামে তেইশ বছরের ওই বধূ। এমনকি, বুধবার রাতে থাকার জায়গা না পেয়ে তিনি আশ্রয় নেন বালুরঘাট হাসপাতালের প্রতীক্ষালয়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মা ও শিশুকে পুলিশ উদ্ধার করেছে। বালুরঘাট মহিলা থানা থেকে এ দিন মা ও সন্তানকে মালদহের সরকারি হোমে পাঠানো হয়।

কুমারগঞ্জ থানার বিশ্বনাথপুর এলাকার বাসিন্দা মলির সঙ্গে বছরদুয়েক আগে এলাকারই নিতাই দাস নামে এক যুবকের বিয়ে হয়। তবে বাড়ির অমতে বিয়ে করায়  পরিবার এই বিয়ে মেনে নেয়নি বলে অভিযোগ। তাই বিয়ের পরই তিনি স্বামীর সঙ্গে মুম্বই চলে যান। সেখানেই কাজ করতেন তাঁরা। এক মাস আগে মলি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। তার পর থেকেই স্বামী তাঁর প্রতি অনীহার মনোভাব দেখাতে থাকেন বলে মলির দাবি। তাঁর অভিযোগ, বুধবার বাড়ি থেকে কন্যার সঙ্গে তাঁকে বাসে চাপিয়ে নিয়ে এসে পতিরাম এলাকায় নামিয়ে দেন অভিযুক্ত নিতাই। তার পরেই তিনি বেপাত্তা হয়ে যায়। এর পর থেকে নিতাইয়ের মোবাইলে ফোন করেও তাঁকে পাননি মলি। এদিকে, স্বামীর ফোন বন্ধ থাকায় চরম সমস্যায় পড়েন তিনি।

 কুমারগঞ্জ থানা ও  পতিরাম ফাঁড়িতে অভিযোগ জানাতে গেলেও পুলিশ তা নিতে অস্বীকার করে বলে মলি অভিযোগ করেন। বিচার না পেলে আত্মহত্যার হুমকিও দেন ওই মহিলা। পরে তিনি বাপের বাড়িতে ফেরার চেষ্টা করলেও  ফিরতে পারেননি।  মলি বলেন, ‘‘কন্যাসন্তান হওয়ায় আমার স্বামী আমাকে ফেলে রেখে চলে গিয়েছেন। স্বামীর সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ করতে পারিনি। আর আমি নিজে ভালবেসে নিতাইকে বিয়ে করেছি বলে আমার স্বামীকেও বাপের বাড়ি থেকে মেনে নেয়নি।’’ ডিএসপি (সদর) ধীমান মিত্র জানান, খবর পেয়ে রাতেই শিশুসন্তান-সহ ওই মহিলাকে থানায় নিয়ে আসা হয়। আপাতত মা ও সন্তানের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তাদের মালদহের হোমে পাঠানো হয়েছে।