একের পর এক ভাঙনের তালিকায় কি এবার পুরাতন মালদহ পুরসভাও! জোর জল্পনা শুরু হয়েছে শহরে। সেই আশঙ্কার ঢেউ পৌঁছেছে কলকাতায় দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দোড়গোড়া পর্যন্ত। কারণ তাঁর ডাকা বৈঠকে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে গরহাজির ছিলেন এই পুরসভার উপপুরপ্রধান চন্দনা হালদার এবং বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর। আর তাতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তৃণমূলের আশঙ্কা, অনুপস্থিত কাউন্সিলরদের ভাঙিয়ে পুরসভা দখল করে নিতে পারে বিজেপি।

যদিও প্রকাশ্যে এ কথা স্বীকার করতে চাননি স্থানীয় নেতারা। এমনকি, খোদ পুরপ্রধান কার্তিক ঘোষ বলেন, ‘‘কিছু কাউন্সিলর বৈঠকে যেতে পারেননি। তবে সকলেই আমার সঙ্গে রয়েছেন। তোলাবাজির বিষয়ে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।” আর যাঁকে নিয়ে বিতর্ক ও আশঙ্কা, সেই উপপুরপ্রধান  চন্দনা অবশ্য বলেন, “কলকাতার বৈঠকে যাওয়া মানে আমরা দলবদল করছি, এমনটা ভাবা ভুল। তবে ব্যক্তিগত কারণে কলকাতায় যাওয়া হয়নি।” তবে চন্দনা এই যুক্তি দিলেও ইতিমধ্যেই এই পুরসভা ভাঙার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন স্থানীয় বিজেপি নেতারা। বিজেপির ব্লক নেতা চন্দন দে বলেন, “পুরাতন মালদহ পুরসভার অধিকাংশ তৃণমূলের কাউন্সিলর বিজেপির দিকে পা বাড়িয়ে রয়েছেন। তৃণমূল পরিচালিত পুরাতন মালদহ পুরবোর্ড ভাঙা এখন সময়ের অপেক্ষা।”  

পুরাতন মালদহ পুরসভায় ওয়ার্ড ২০টি। আর বুথ ৫৬টি। এবারের লোকসভা নির্বাচনে পুরাতন মালদহ পুরসভার ১৮টি ওয়ার্ডেই তৃণমূলকে টেক্কা দিয়েছে বিজেপি। আর ৫৬টি বুথের মধ্যেই বিজেপি এগিয়ে রয়েছে ৫১টি বুথে। শহর এলাকায় বিজেপি প্রার্থী তথা সংসাদ খগেন মুর্মু ভোট পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৯৫১টি। আর ১০ হাজার ৭৩টি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী মৌসম নুর। মাত্র ৩ হাজার ৪৩টি ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন কংগ্রেসের ইশা খান চৌধুরী। সিপিএম প্রার্থী বিশ্বনাথ ঘোষের ঝুলিতে রয়েছে মাত্র ৭১৯ ভোট। লোকসভা ভোটের এই ফলের পর থেকেই পুরবোর্ড ভাঙার ইঙ্গিত দিতে শুরু করে দেন বিজেপির স্থানীয় নেতারা। কারণ, ২০১৫ সালের পুরনির্বাচনে ২০টির মধ্যে ৯টি আসন পেয়েছিল তৃণমূল। আর বিজেপি এবং সিপিএমের দখলে ছিল চারটি করে আসন এবং নির্দল প্রতীকে জয়ী হয়েছিলেন তিনজন। পুরবোর্ড গঠনের সময় বিজেপি, সিপিএম এবং নির্দলের একাধিক কাউন্সিলর সমর্থন করে তৃণমূলকে। পুরপ্রধান হন কার্তিক ঘোষ এবং উপপুরপ্রধান হন সিপিএম থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া চন্দনা।