এক আইনজীবীর বাড়ির দেওয়ালের ক‌ংক্রিটের বড় ঘুলঘুলি ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেওয়াল ভেঙে লোহার গেট খুলে সর্বস্ব চুরি করে পালিয়েছে দুষ্কৃতীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে শিলিগুড়ি থানার কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম লাগোয়া তিলক রোডের ঘটনা। পুলিশ জানিয়েছে, উৎপল সরকার নামের ওই আইনজীবী গত বছর মারা গিয়েছেন। তিনি একসময় এলাকার কাউন্সিলরও ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর স্ত্রী কলকাতায় পরিবারের সঙ্গে থাকেন। ছেলে মুম্বইয়ে একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। উৎপলবাবুর মৃত্যুর পর থেকে প্রায় ৮ মাস বাড়িটি তালাবন্ধ। সামনে দিকে তালা একইরকম বন্ধ ছিল। এ দিন এলাকার লোকজন দেওয়ালের পাশের ওই বড়মাপের ঘুলঘুলি ভাঙা দেখেন।

পরিবারের এক আত্মীয়কে খবর দেওয়া হয়। স্থানীয় কাউন্সিলর নান্টু পাল এবং পুলিশ আসে। দেখা যায়, গোটা বাড়িটি তছনছ করা হয়েছে। শাড়ি, জামাকাপড় নেই। কয়েকটি গয়নার বাক্সা খালি অবস্থায় মেঝেতে রয়েছে। বেশিরভাগ আলমারি, টেবিলের ড্রয়ার ভাঙা। টিভি, গিজার, ইনর্ভাটার ছাড়া ওয়াশিং মেশিনের শুধু খোল পড়ে রয়েছে। বাথরুম, রান্নাঘরের সমস্ত ধাতুর কল এবং পাইপ উধাও। 

বাড়িটি একেবারেই স্টেডিয়াম, মহকুমা পরিষদ, মৎস দফতর, কেন্দ্রীয় শুল্ক দফতর, একাধিক ওষুধের দোকান, চিকিৎসকের চেম্বার এবং তিনটি নার্সিংহোমের পাশে। উল্টোদিকেই ভুটিয়া মার্কেট। বেশি রাত অবধি সব জায়গায় লোকজনের যাতায়াত রয়েছে। এমন জায়গায় বড়মাপের এই চুরির ঘটনায় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা ক্ষোক্ষ প্রকাশ করেন। কাউন্সিলর নান্টুু পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেন। কাউন্সিলেরের কথায়, ‘‘ভোরের দিকে ঘটনাটি ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। আর যেভাবে চুরি হয়েছে, তাতে বোঝাই যাচ্ছে একদিন নয়, খালি বাড়ির সুযোগে বেশ কয়েকদিন ভিতরে ঢুকেছে। ভিতরের দিকে দেওয়াল ভেঙে লোহার গেটে প্রায় উপড়ে ফেলা হয়েছে। সবার আতঙ্কিত হওয়ারই কথা।’’

স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং বাসিন্দারা বলেন, ‘‘পুলিশের নজরজদারি এলাকায় একেবারেই ঠিক নেই। আগেও কয়েকটি চুরির ঘটনা ঘটেছে।’’ প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, ভোরের দিকে অন্তত ৩/৪ জন বাড়িটিতে ঢুকেছে। পরে জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়েছে। বাড়িটির পিছনের ওই ঘুলঘুলির দিকে বড় গাছপালা রয়েছে। সেখানে কেউ ঢুকলে সাধারণত বাইরে থেকে দেখা যায় না। এরই সুযোগ নিয়েছে দুষ্কৃতীরা। ঘটনাস্থল থেকে কয়েকশো মিটারের মধ্যেই শিলিগুড়ি পুলিশের ডিসি (পূর্ব) গৌরব লালের অফিস এবং আবাস। ডিসি বলেন, ‘‘ফাঁকা বাড়ির সুযোগে চুরি হয়েছে। আমরা তদন্ত করছি।’’

পুলিশ জানাচ্ছে, মৃত আইনজীবী উৎপলবাবুর ছেলে নীলাঞ্জন মুম্বইতে থাকেন। এখন তাঁর স্ত্রী, ছেলে এবং মা কলকাতায় থাকেন। উৎপলবাবু ভাই সত্য সরকার বলেন, ‘‘আমি পাশের এলাকায় থাকি। প্রায়ই দাদার বন্ধ বাড়িটি সামনে থেকে দেখে আসি। সামনে তালাবন্ধই ছিল। পিছনের দিকে যে ওই অবস্থা কে জানত। ভাইপো আসছে। লক্ষাধিক টাকার জিনিস চুরি গিয়েছে।’’