কালিয়াগঞ্জের পর এ বারে রায়গঞ্জেও মোমো গেমের আতঙ্ক ছড়াল। বুধবার দুপুরে রায়গঞ্জ সুরেন্দ্রনাথ মহাবিদ্যালয় ও রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই পড়ুয়া সংবাদ মাধ্যমের কাছে গিয়ে দাবি করেন তাঁরা মোবাইল ফোনে মোমো খেলার প্রস্তাব পেয়েছেন। ওই দুই পড়ুয়া বিশ্বজিৎ রায় ও পীযূষ রায়ের বাড়ি রায়গঞ্জ থানার শুসিহার এলাকায়। বিশ্বজিৎ সুরেন্দ্রনাথ মহাবিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষ ও পীযূষ রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষে পড়েন।

তাঁদের অভিযোগ, মঙ্গলবার বিকেল সওয়া চারটে নাগাদ তাঁরা হোয়্যাটসঅ্যাপে দু’টি অজানা ও অদ্ভুত নম্বর থেকে মোমো খেলার প্রস্তাব-সহ লিঙ্ক পান। প্রথমে তাঁরা এসএমএসগুলি ডিলিট করে দেন। কিন্তু এর পরে একাধিক বার হোয়্যাটসঅ্যাপে খেলার প্রস্তাব সহ লিঙ্ক তাঁদের হোয়্যাটসঅ্যাপে আসে। তাঁরা আতঙ্কে মোবাইলের ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে নম্বর দু’টি ব্লক করে দেন। বিশ্বজিতের দাবি, ওই ঘটনার পর থেকে তাঁর মোবাইলে সেভ থাকা একাধিক ব্যক্তির ফোন নম্বর ডিলিট হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি মোবাইল ফোনটি অফ করে দেন। তাঁদের সন্দেহ, বিদেশের কোনও নম্বর থেকে তাঁদের মোমো খেলার প্রস্তাব সহ লিঙ্ক পাঠানো হয়েছে। তাঁরা পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাবেন বলেও দাবি করেছেন। পুলিশ সূত্রের খবর, এদিন ওই দুই তরুণ কর্ণজোড়া পুলিশ ফাঁড়ির ওসি সুশান্ত বৈষ্ণবের সঙ্গে দেখা করে মৌখিক অভিযোগ জানিয়েছেন। উত্তর দিনাজপুরের পুলিশ সুপার অনুপ জায়সবালের দাবি, পুলিশ লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।

এ দিকে হোয়াটসঅ্যাপে মোমো খেলার আবেদন পেয়েছেন বলে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ইসলামপুরের শান্তিনগরের এক শিক্ষক পুনম পাল। জানা গিয়েছে, দু’দিন আগেই মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপে হঠাৎই পুনমের  নজরে আসে ঢুকেছে মোমোর মেসেজটি। খেলা চালু করার জন্য অনুরোধ করা হয়। এর পরেই থানায় গিয়েই লিখিত অভিযোগ করেন পুনম। পুলিশ বিষয়টি দেখবেন বলে জানিয়েছেন। চোপড়ার লালবাজারেও মোমো নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তা নিয়ে চিন্তায় অভিভাবকেরাও।