তৃণমূলের মালদহ জেলা সভাপতির দায়িত্ব মৌসম নুরের কাঁধে। কিন্তু জেলায় তিনি যে একাই দলের সমস্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না, তা স্পষ্ট করে দিল দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
 
মালদহ জেলায় সদ্য-ঘোষিত তৃণমূলের ব্লক মনিটরিং কমিটিগুলি বাতিল করে দিলেন শীর্ষ নেতৃত্ব। এই কমিটিগুলি সম্প্রতি মৌসম ও জেলা পর্যবেক্ষক ও মন্ত্রী সাধন পাণ্ডের হাতে তৈরি হয়েছিল।
 
মঙ্গলবার কলকাতায় দলের রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পর ফোনে এ কথা জানান দলের মালদহ জেলা কমিটির চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন। তাঁর দাবি, এ দিন ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি নিয়ে বৈঠকের পর জেলা নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও যুবনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরাই ব্লকগুলির ওই নয়া মনিটরিং কমিটি বাতিল করেন। জেলার পুরনো কমিটিই থাকবে বলেও তাঁরা জানান।
 
মোয়াজ্জেম বলেন, ‘‘রাজ্য নেতৃত্ব জানিয়েছেন যে ওই ব্লক কমিটিগুলি গঠনের ক্ষেত্রে রাজ্য নেতৃত্বের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। পরবর্তীকালে সেই অনুমোদন নিয়ে কমিটিগুলি গঠন করতে হবে।’’ 
 
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, নয়া মনিটরিং কমিটি গঠন নিয়ে জেলায় যে মাত্রায় দলের আদি ও নব্য নেতা-কর্মীদের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছিল, তার জেরেই রাজ্য নেতৃত্ব নয়া কমিটি বাতিল করেছেন। এ নিয়ে দলের জেলা সভাপতি মৌসমকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘এমন ঘটনা জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি।’’ 
 
জেলায় দলের সমস্ত ব্লক কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল ৫ অগস্ট। বদলে, ব্লকে ব্লকে ঘোষণা করা হয়েছিল নয়া মনিটরিং কমিটির। সাধন ও মৌসমের স্বাক্ষরিত সেই কমিটি অঞ্চলে অঞ্চলে নয়া কমিটি গঠন করবে বলেও ঘোষণা হয়েছিল। ওই কমিটি বেরোতেই আদি ও নব্য নেতা-কর্মীদের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। মৌসমের বাড়ির সামনে বিক্ষোভও দেখান কালিয়াচক-২, রতুয়া-১ ব্লকের নেতা-কর্মীরা। কালিয়াচক-২ ব্লকের প্রাক্তন সভাপতি আসাদুল আহমেদের অভিযোগ ছিল, নয়া যে ব্লক মনিটরিং কমিটি ঘোষিত হয়েছে তা আদতে কংগ্রেসেরই কমিটি।