বর্ষা নামতেই শহরের বিভিন্ন জায়গায় জল জমতে শুরু করেছে। এমনকী হিলকার্ট রোডের বিভিন্ন জায়গায় নিকাশি সমস্যার জেরে জল জমছে বলে অভিযোগ। টানা বৃষ্টি চললে শহরের অনেক জায়গাই জলবন্দি হয়ে পড়বে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধীরাও। সোমবার তাই পুরসভার কর্মী আধিকারিকদের নিয়ে বর্ষা মোকাবিলায় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুতি বৈঠক করেন শিলিগুড়ির মেয়র অশোক ভট্টচার্য। এ দিন থেকেই পুরসভার কর্মী আধিকারিকদের ছুটি পুজোর আগে পর্যন্ত বাতিল হয়েছে।

চালু করা হয়েছে ‘কন্ট্রোল রুম’। ২৪ ঘণ্টাই তা খোলা থাকবে। বর্ষায় কোথাও সমস্যা হলে ২৫২৬৭৮০ নম্বরে ফোন করে কন্ট্রোল রুমে খবর দিতে পারবেন বাসিন্দারা। বরো অফিসারদের নজরদারি এবং সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোথায় কী পরিস্থিতি, তাঁরাই পুর কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজন মতো রিপোর্ট দেবেন। কর্মী আধিকারিকদের মোবাইল ফোন সব সময় খুলে রাখতে বলা হয়েছে। ছুটির দিনেও মেয়র এবং মেয়র পারিষদরা দফতরে আসবেন।

মেয়র বলেন, ‘‘পাহাড়ে অতি বৃষ্টি হলেই নদীর জল এক দু’দিন ধরে শিলিগুড়িতে বেশি থাকে। বর্ষা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এ দিন বৈঠক করা হয়েছে।’’ এ দিন প্রথমে স্যানিটরি ইন্সপেক্টর পরে সমস্ত ওয়ার্ড মাস্টার এবং সুপার ভাইজার, বরো অফিসারদের নিয়ে বৈঠক হয়। আলাদা করে বৈঠক হয় সাবঅ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়র এবং বরো অফিসারদের সঙ্গে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত বালির বস্তা প্রস্তুত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৩টি পাম্প ভাড়া করা হচ্ছে জল জমলে তা বার করার কাজে। পুরসভার একটি ‘সাকশন মেশিন’ এবং ‘ডিসিলটিং মেশিন’ দুটোই প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।

শিলিগুড়ি এবং লাগোয়া এলাকায় জাতীয় সড়ক, এশিয়ান হাইওয়ের কাজ চলছে। তার জন্য জল আটকে সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা। সে কারণে পূর্ত দফতর, এশিয়ান হাইওয়ে এবং জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আগামী ১৪ জুলাই বৈঠক ডাকা হয়েছে। ডাকা হয়েছে সেচ দফতরকেও।

ফুলবাড়িতে মহানন্দা ব্যারাজের জল সঠিক সময়ে ছাড়া না হলে নদী লাগোয়া ২, ৩, ৪, ৫, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডগুলোতে জল ঢুকে পড়তে পারে। সে কারণে সেচ দফতরের সঙ্গে আলোচনা করবেন পুর কর্তৃপক্ষ। শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরেরও সহযোগিতা চাওয়ার কথা জানান মেয়র। মেয়র জানিয়েছেন, আবহাওয়া দফতর এবং কেন্দ্রীয় জলসম্পদ নিগমের সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে। দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে।

জোড়াপানি এবং ফুলেশ্বরী নদী দিয়ে মহানন্দা অ্যাকশন প্ল্যানে নিকাশির যে পাইপ বসানো হয়েছে, তা নিয়েও সমস্যা হচ্ছে। তা নিয়ে এসজেডিএ-র সঙ্গে কথা বলবেন পুর কর্তৃপক্ষ। কন্ট্রোল রুমে কোনও খবর এলেই তা নথিভুক্ত করতে
বলা হয়েছে।