কাটমানি খাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল আগেই। এ বার তৃণমূলের সেই বরো চেয়ারম্যান রঞ্জন শীলশর্মার বিরুদ্ধে তাঁরই স্কুলের এক শিক্ষিকাকে আপত্তিকর প্রস্তাব দেওয়া এবং তা না মানায় মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠল। মঙ্গলবার ক্লাসে পড়ানোর সময় স্কুলের অন্য সহকর্মীরা রঞ্জনবাবুর শর্ত মানতে তাঁকে চাপ দেন ও মানসিক লাঞ্ছনা করে বলেও ওই শিক্ষিকার অভিযোগ। তাতেই অসুস্থ হয়ে শিলিগুড়ি হাসপাতালে ভর্তি হন ওই শিক্ষিকা। পরে তাঁকে একটি নার্সিংহোমে সরানো হয়। অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন রঞ্জন ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে মানহানির মামলার হুমকিও দেন। বলেন, তিনি এমন কোনও প্রস্তাব দেননি। বরং ওই শিক্ষিকাই স্কুলের পরিবেশ নষ্ট করতে চাইছেন। শিক্ষিকাকে এর আগে টাকাও দিয়েছেন বলে তাঁর দাবি।
এর পিছনে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল দেখতে পাচ্ছেন কেউ কেউ। ওই শিক্ষিকা তৃণমূলেরই অন্য একটি শিক্ষক সংগঠনের সদস্যপদ নিয়েছেন। তবে গোষ্ঠীকোন্দল মানতে চাননি রঞ্জন। বিষয়টি নিয়ে একটি রিপোর্ট তলব করা হবে বলে জানান শিলিগুড়ির জেলা স্কুল পরিদর্শক (প্রাথমিক) বালিকা গোলে। তৃণমূল জেলা সভাপতি গৌতম দেব জানান, খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। 
নেতাজি জিএসএফপি স্কুলের ওই শিক্ষিকা জানান, তিনি ২০১২ সালে স্কুলে যোগ দেন। তিনি বলেন, ‘‘রঞ্জনবাবু ২০১৭ সাল থেকে আমাকে আপত্তিকর প্রস্তাব দিতে থাকেন। কিন্তু তাতে কান না দিলে রঞ্জনবাবুর প্ররোচনায় বাকি সহকর্মীরা আমাকে লাঞ্ছনা শুরু করেন। একঘরে করা হয় আমাকে।’’ তাঁর দাবি, রঞ্জনবাবু প্রভাবশালী বলে এত দিন ভয় পাচ্ছিলেন। এখন পিঠ দেওয়ালে ঠেকে যাওয়ায় প্রতিবাদ করতে বাধ্য হলেন। অভিযোগ, এ দিন ক্লাস চলাকালীন স্কুলের বাকি কয়েক জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ক্লাসঘরে ঢুকে তাঁর সঙ্গে বাদানুবাদে জড়ালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। শিলিগুড়ি পুলিশের ডিসি (পূর্ব) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘শুনেছি অভিযোগ হয়েছে। খতিয়ে দেখে এ বিষয়ে বলতে পারব।’’ পুলিশ সূত্রে দাবি, কর্মক্ষেত্রে যৌনহেনস্থা আইন অনুসারে স্কুলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একটি কমিটি গড়ে রিপোর্ট দিতে হয় পুলিশকে। দার্জিলিঙে তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষকদের অন্য সংগঠনটির নেতা বিভাস চক্রবর্তী বলেন, ‘‘শিক্ষিকা অভিযোগ তোলার পরেই তাঁর আচরণ নিয়ে পাল্টা অভিযোগ তোলার কথা মনে হল স্কুলের? দোষীদের শাস্তি চাই।’’