গোষ্ঠী কোন্দল মেটাতে জেলা কমিটির মাথায় বসানো হল পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেবকে। বৃহস্পতিবার কলকাতার বৈঠকে এমনই নির্দেশ দেন তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। দল সূত্রের খবর, এ দিন তৃণমূল ভবনে বিধায়কদের বৈঠকে দলনেত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই গৌতম দেবকে জলপাইগুড়ির জেলা দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছেন। এ দিনের বৈঠকে মালবাজারের বিধায়ক বুলু চিক বরাইক উঠে বর্তমান জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান। তার পরেই গৌতমকে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটকে মাথায় রেখে আলিপুরদুয়ার জেলায় দলের নেতাদেরও এক হয়ে কাজ করতে নির্দেশ দেন মমতা। জেলায় সংগঠনকে শক্তিশালী করতে বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তীকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয় বলেও দাবি। 

উত্তরবঙ্গের চার জেলার কোর কমিটির চেয়ারম্যানের পদে রয়েছেন গৌতম। জলপাইগুড়ির নেতাদের একাংশের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর এ দিনের ঘোষণার অর্থ, এ বার থেকে জেলা কমিটিকে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে হলে গৌতমের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি কৃষ্ণকুমার কল্যাণী এ দিনের বৈঠকে বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না বলে দাবি করে বলেন, “বৃহস্পতিবার বিধায়কদের বৈঠক ছিল। আমি বিধায়ক নই ছিলাম না।” গৌতম দেবের মন্তব্য, “মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিটি নির্দেশই পালন করছি।”

লোকসভা ভোটের পর থেকে জলপাইগুড়িতে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরমে ওঠে। যার জেরে রাজ্য নেতৃত্ব সৌরভ চক্রবর্তীকে সরিয়ে কৃষ্ণকুমার কল্যাণীকে জেলা সভাপতি করেন বলে দাবি নেতাদের একাংশের। তাতেও দ্বন্দ্ব সামাল দেওয়া যায়নি। উল্টে কিষাণবাবু সব ব্লক কমিটি ভেঙে দেওয়ায় দলের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। মালবাজারের বিধায়ক বুলু চিক বরাইক বলেন, “আমার এলাকায় ব্লক কমিটি ভেঙে নতুন আহ্বায়ক বসানো হয়েছে। যাঁকে আহ্বায়ক পদে বসানো হয়েছে তাঁকে আমিই চিনি না। এ ভাবে কাজ হয় নাকি!”

লোকসভা ভোটে আলিপুরদুয়ার কেন্দ্রেও বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয় তৃণমূলকে। যার জেরে দলের আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি পদ থেকে মোহন শর্মাকে সরিয়ে দিয়ে মৃদুল গোস্বামীকে সেই পদে বসান হয়। বুধবার দলের যুব সভাপতিও বদল হয়েছে। সৌরভ ঘনিষ্ঠদের দাবি, এ দিনের বৈঠক থেকে জেলায় দলের সংগঠনে কী ফাঁকফোকর রয়েছে, তা খুঁজে বের করে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে বলেন নেত্রী। জেলা সভাপতি মৃদুল গোস্বামী বলেন, ‘‘বিধায়ককে আগেই বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ দিন জেলা সভাপতিকে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে তাঁকে।’’