স্ত্রীকে খুন করে শ্বশুরবাড়ির সেপটিক ট্যাঙ্কের ভিতরে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। রবিবার আশিঘর ফাঁড়ি এলাকার ঘটনা। বধূর নাকে আঘাত ও রক্তপাতের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশ জানায়, মৃতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার বিকেলে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে খুন ও প্রমাণ লোপাটের মামলা রুজু করা হয়েছে।

শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি (পূর্ব-২) সুরিন্দর সিংহ বলেন, ‘‘অভিযোগ পেয়েছি। মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার হয়েছে। তদন্ত চলছে।’’ পুলিশ জানায়, জলপাইগুড়ির এক বাসিন্দার সঙ্গে সম্বন্ধ করে প্রায় সাড়ে ছয় বছর আগে বিয়ে হয়েছিল ওই বধূর। শ্বশুরবাড়ির কাছেই ভাড়া থাকতেন ওই দম্পতি। কিন্তু দারিদ্রকে কেন্দ্র করে পরিবারে অশান্তি লেগেই ছিল। ঝামেলার জেরে ওই বধূ বাপের বাড়িতে এবং তাঁজ়র স্বামী জলপাইগুড়িতে নিজের বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। জলপাইগুড়িতে ভোটের দিন গত ১৮ এপ্রিল ওই বধূ শ্বশুরবাড়ি গেলে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। সে দিনই তিনি পালিয়ে তাঁর বাপের বাড়ি চলে আসেন। তার পরেই শ্বশুরবাড়ি আসে তাঁর স্বামী। 

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দু’জনের মধ্যে ব্যাপক ঝামেলা হয়। দরজায় দুমদাম আওয়াজ পেয়ে পাশের ঘর থেকে বেরিয়ে আসে ওই বধূর দাদা এবং বৌদি। বৌদি বলেন, ‘‘আমরা রাত দেড়টা নাগাদ বেরিয়ে এসে জিজ্ঞাসা করলে দেওর বলে, তাঁর স্ত্রী বেরিয়ে বাইপাসের দিকে চলে গিয়েছেন। পরিবারের সকলে খুঁজতে যাই টোটো নিয়ে। সেই সময় বাড়িতে বড় কেউ ছিল না। আমাদের সন্দেহ, বাড়ির পিছনের সেপটিক ট্যাঙ্কে সেই সময়ই দেহ সরানো হয়েছে।’’ পরিবারের সন্দেহ, শুক্রবার রাতে সকলেই ওই বধূকে খুঁজতে গেলেও তাঁর স্বামী মাথাব্যথার ছুতো করে যাননি। পরদিন শনিবার সকালে তিনি ব্যাগ গুছিয়ে জলপাইগুড়ি চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে বধূর আত্মীয়েরা তাঁকে আটকে দেন। একরকম জোর করেই স্ত্রীর নামে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয় আশিঘর ফাঁড়িতে। রবিবার তাঁকে থানায় ডেকে পাঠায় পুলিশ। পুলিশের দাবি, কিছু ক্ষণের মধ্যেই ভেঙে পড়ে সেই ব্যক্তি।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯