ভোট করাতে শাসক তৃণমূল বাইরে থেকে এলাকায় লোক ঢোকাতে পারে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। আজ, রবিবার ইসলামপুরে বিধানসভা উপনির্বাচন নিয়ে এমনই আশঙ্কা বিরোধীদের। তাদেরধারণা, চোপড়া, গোয়ালপোখর এবং লাগোয়া বিহার থেকেও বহিরাগত দুষ্কৃতীদের আনা হতে পারে। দিনকয়েক আগে সব দলকে নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে সেই অভিযোগ করেছে বিরোধীদের একাংশ। তাই দলের কর্মীদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন বিরোধী বিজেপি, কংগ্রেস ও সিপিএম নেতৃত্ব। 

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, কোথাও এমন কিছু ঘটনার অভিযোগ পেলে তাদের তরফে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তৃণমূলের দাবি, বিরোধীরা মিথ্যে অভিযোগ তুলে তাদের ‘বদনাম’ করতে চাইছে। ইসলামপুরের বিদায়ী বিধায়ক তথা ইসলামপুর পুরসভার চেয়ারম্যান কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন, ‘‘বিরোধীরা হারবে বুঝতে পেরে এসব বলছে। আসলে তারা হারার দায় চাপাতে অজুহাত খুঁজছে। ভোটে হারার পর তা বলতে চাইবে।’’ 

বিজেপি’র অভিযোগ, লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল দুষ্কৃতীদের বিভিন্ন বিধানসভা এলাকায় রেখেছিল। ইসলামপুরের একাধিক বুথে গোলমালও হয়েছে। এখন একটা বিধানসভায় উপনির্বাচন। তাই গোয়ালপোখর, চোপড়া থেকে দুষ্কৃতীদের ইসলামপুরে আনবে। বিজেপির জেলা সভাপতি নির্মল দাম বলেন, ‘‘বাইরে থেকে সমাজবিরোধীদের এনে তৃণমূলের তরফে গোলমাল পাকানোর আশঙ্কা তো রয়েইছে। বুথে গিয়ে ভোটারদের ভয়ও দেখানো হতে পারে। তাই এ দিন রাতে হোটেলগুলোতে তল্লাশি, নজরদারির দাবি আমরা করেছি।’’ তাঁর দাবি, দক্ষিণবঙ্গেও দেখা গিয়েছে ওই চিত্র। মুখে কাপড় বেঁধে বহিরাগতরা ঢুকেছে। সর্বদলীয় বৈঠকে নির্বাচন কমিশনকে তাঁরা সেটাই বলেছেন। 

সিপিএমের উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি অপূর্ব পালও একই সুরে জানান, ইসলামপুরের পাশে চোপড়া, গোয়ালপোখর, লাগোয়া বিহার রয়েছে। সেখান থেকে লোকজন এনে তৃণমূল গোলমাল পাকাবেই। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের কর্মীদের সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। বাইরের লোকজন সমস্যা করছে, দেখলে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানো হবে।’’ কংগ্রেস নেতৃত্ব মনে করেন, অভিযোগ জানিয়ে লাভ হবে না। তবে তৃণমূল ভোট করাতে বহিরাগত লোকজন জড়ো করছে। জেলা কংগ্রেস সভাপতি মোহিত সেনগুপ্তের কথায়, ‘‘আমরা কর্মীদের সজাগ থাকতে বলেছি। কিছু ঘটলে সেইমতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।’’ পরিস্থিতি সামলাতে বিজেপি ইসলামপুরে তাদের দলীয় কার্যালয়ে ‘কন্ট্রোল রুম’ খুলছে। বহিরাগতরা কোথাও বুথ দখলের চেষ্টা করছে, ছাপ্পা দিচ্ছে দেখলে কন্ট্রোল রুমে ফোন করে জানাতে বলা হয়েছে। সেখান থেকে নির্বাচন কমিশনে দলের নেতারা অভিযোগ জানাবেন।