• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

কখন নিয়ে যাবে শিবিরে, ভয়ে বাসা ভাড়া বক্সিরহাটে

NRC
ফাইল চিত্র

Advertisement

অসমের নাগরিকপঞ্জিতে নাম নেই বিবাহ সূত্রে অসমে থাকা পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু মহিলার।  ভয়ে সিটিজেনশিপের শংসাপত্র, জমির দলিলের ডুপ্লিকেট কপি সহ নানা প্রয়োজনীয় কাগজের আবেদন নিয়ে তুফানগঞ্জ মহকুমারশাসকের দ্বারস্থ হন সোমবার তেমনই দশ মহিলা।    

নাগরিক পঞ্জিতে নাম ওঠেনি আরতি গোপের। তিনি এ দিন গিয়েছিলেন মহকুমাশাসকের কাছে।  তিনি বলেন, ‘‘চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জি প্রকাশের পরই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি আমরা সবাই। নাম নেই কখন অসম সরকার আমাকে টেনে নিয়ে চলে যাবে ডিটেনশন ক্যাম্পে। এই আতঙ্কেই পরিবারের সকলে মিলে বক্সিরহাটে  এলাকায় ভাড়া নিয়ে আছি।’’ তা‌ঁর দাবি, ‘‘আমরা পশ্চিমবঙ্গের মেয়ে। তাই এ দিন তুফানগঞ্জ মহকুমাশাসকের কাছে আমার বাবা সতীশচন্দ্র ঘোষের সিটিজেনশিপের শংসাপত্র পাওয়ার জন্য এসেছিলাম। এবং দাবি দেখেছিলাম আমাদের এই দুর্দশার কথা মুখ্যমন্ত্রীকে জানাবো। তার একটা ব্যবস্থা করে দিন মহকুমাশাসক। কিন্তু আমাদের হতাশ করে ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। আমাদের লিখিত আবেদন তিনি গ্রহণ করেননি।’’ মহকুমা শাসকের বক্তব্য সংশ্লিষ্ট দফতরে যেতে বলা হয়েছে। 

২০১৯ সালের ৩১ অগস্ট অসমে চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জি প্রকাশিত হয়। প্রায় ১৯ লাখ লোকের নাম বাদ পড়ে চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জি থেকে। এই ১৯ লাখ লোকের মধ্যে রয়েছে বিবাহ সূত্রে অসমে থাকা পশ্চিমবঙ্গের অনেক মহিলার। অভিযোগ, এনআরসি ক্যাম্পে তিন বার প্রয়োজনীয় কাগজ জমা জমা দিলেও নাম ওঠেনি। কেউ অসম ছেড়ে বাংলায় বাবার বাড়ি এসে পড়ে রয়েছেন। কেউ বা বক্সিরহাটে  ঘর ভাড়া করে পরিবার নিয়ে রয়েছে। তাঁরা আতঙ্কে রয়েছেন, কখন অসম  সরকার টেনে নিয়ে যায় ডিটেনশন ক্যাম্পে। 

রশিদা বেওয়া, আন্না পণ্ডিতেরও একই ভয়। তাঁদের পরিবার নিয়ে রয়েছেন বাংলার বিভিন্ন জায়গায়। 

সূত্রের খবর, আরতিদেবীর বাড়ি বক্সিরহাট থানার ভানুকুমারি ২  গ্রাম পঞ্চায়েতের ঝাউকুঠি এলাকায়। অসমের বরপেটা রোডের বাসিন্দা পেশায় চিকিৎসক মনোজকান্তি গোপের সঙ্গে বিয়ে হয় ১৯৯১ সালে। পরিবারটির বেশ ভালই কাটছিল। ২০১৮ সালের প্রথম দিকে অসমে এনআরসি-র জন্য তৈরি হয় ক্যাম্প। পরিবারের সবাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে জমা করে ক্যাম্পে। জানা যায়, ২০১৮ সালের শেষ দিকে প্রথম এনআরসি-র তালিকা প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয় এনআরসি তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরও নাম ওঠেনি আরতির।  নাম নেই এ রকম প্রায় দু’শোর উপর মহিলার। যাঁরা বিবাহ সূত্রে অসমে থাকেন।

তুফানগঞ্জ মহকুমাশাসক অরবিন্দ ঘোষ বলেন, ‘‘আমি তাঁদের সংশ্লিষ্ট দফতরে যোগাযোগ করতে বলেছি। সেখান থেকে যদি কাগজপত্র আমাদের দফতরে আসে তখন বিষয়টি দেখা হবে।’’ মুখ্যমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে চাওয়ার আবেদনটি সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে চাননি।

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন