কথায় আছে, রাধাকুণ্ড তিথিতে মধ্য রাতে স্নান করলে কৃষ্ণ তাঁকে ‘‘রাধাসম প্রেম’’ দান করেন। এই বিশ্বাসে যুগ যুগ ধরে বৃন্দাবনে সেই পুণ্য তিথিতে স্নান করে পুণ্যলাভ করেন হাজার হাজার ভক্ত। 

সেই বৃন্দাবনের ছায়া মালদহেও। সেই একই রীতি মেনে এই রাজ্যের ‘গুপ্ত বৃন্দাবন’ বলে পরিচিত মালদহের রামকেলি ধামে বুধবার মধ্য রাতে পুণ্যস্নান করলেন কয়েক হাজার ভক্ত। রামকেলির রূপ-সনাতন মিলন মন্দির ও বৈষ্ণবশাস্ত্র চর্চা কেন্দ্র সংলগ্ন রাধাকুণ্ডে এই মন্দির কমিটির তরফেই সেই পুণ্যস্নানের আয়োজন করা হয়েছিল। 

এই স্নান ঘিরে এখানে পর্যটনেও ঢল নেমেছে। কোনও কোনও ব্যবসায়ী জানাচ্ছেন, দুর্গা পুজোর পরে কালী পুজোর আগে এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পুণ্যার্থীদের ঢল নেমেছে এই এলাকায়। তাতে সব দিক দিয়েই ব্যবসার লাভ হচ্ছে। ভক্তেরা এসেছেন কোচবিহার থেকেও। বৃন্দাবন দাস, পরমেশ্বর ঘোষ, হরিদাসী রায়রা বলেন, “আগে এই তিথিতে পুণ্যস্নানের জন্য বৃন্দাবন যেতাম। খরচ হত অনেক। কিন্তু গত বছর থেকে গুপ্ত বৃন্দাবন রামকেলিতে সেই স্নান চালু হওয়ায় আমরা এখন এখানেই আসছি।”

পুণ্যার্থীরা জানাচ্ছেন, মহাপ্রভু চৈতন্যদেব রামকেলিতে এসেছিলেন পাঁচশো বছর আগে। বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বীদের কাছে তাই রামকেলি ধাম পুণ্যভূমি। 

বুধবার বিকেল থেকেই ভক্তদের ভিড় জমে রূপ-সনাতন মিলন মন্দিরে। সন্ধ্যা হতেই সেই মন্দিরে শুরু হয় নাম সংকীর্তন। মধ্যরাতে রাধাকুণ্ডে প্রথমে শুরু হয় আরতি। হাজারো মহিলা-পুরুষ হাতে জ্বলন্ত প্রদীপ নিয়ে সেই আরতিতে মাতেন। সঙ্গে কীর্তন।  রাত ১২টার পরে শুরু হয় পুণ্যস্নান।