ডলোমাইট দূষণের ফলে বিপন্ন নদীও। নদীর জলে ডলোমাইট-বিষ মিশে যাওয়ায় মরে যাচ্ছে নদীর মাছও। পরিবেশপ্রেমীদের আশঙ্কা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে হারিয়েই যাবে একাধিক নদীয়ালি মাছ। 

মৎস্য দফতর সূত্রেই জানা গিয়েছে, ভুটান থেকে নেমে আসা উত্তরবঙ্গের নদী ও ঝোরাগুলিতে দূষণের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে৷ বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ ভুটানের ডলোমাইট খাদান থেকে দূষিত জল বিভিন্ন নদী ও ঝোরাতে মেশার ফলেই দিন দিন এই দূষণ বাড়ছে। এ ছাড়া বাতাসে বয়ে এসেও ডলোমাইটের গুঁড়ো মিশছে নদীর জলে। এর ফলে তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা, সঙ্কোশে প্রায় বিরল হয়ে পড়ছে বোরোলি-সহ বিভিন্ন দেশীয় সুস্বাদু মাছ। মাছ কমায় চাহিদা-যোগানের নিয়মে, ক্রমেই দরও চড়ছে মাছের৷ নদী-বিশেষজ্ঞ সুপ্রতিম কর্মকার বলেন, ‘‘উত্তরবঙ্গের নদীগুলিতে বোরোলি মাছের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার প্রধান কারণ নদী-দূষণ৷ ভুটান থেকে যে নদীগুলি নেমে এসেছে তাতে দূষণের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে৷ দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে নদীতে বোরোলির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া মুশকিল৷’’

এর আগে কল্যাণীর সরকারি খামার থেকে বোরোলির পোনা এনে উত্তরবঙ্গের নদীগুলিতে ছাড়া হয়েছিল৷ কিন্তু তাতেও তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকায় বোরোলির সংখ্যা তেমন বাড়েনি বলেই দাবি মৎস্য দফতরের। আলিপুরদুয়ারের মৎস্য দফতরের এক আধিকারিক সুনীল বর্মন বলেন, ‘‘ডলোমাইট-দূষিত জলে নদীতে ক্ষারের পরিমাণ বাড়ছে৷ ভুটানে, দূষণের উত্‍সস্থলে রাশ টানা না গেলে শুধু বোরোলি নয়, উত্তরবঙ্গের নদীগুলি থেকে বহু মাছই নিকট ভবিষ্যতে হারিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা৷’’ মৎস্য দফতরের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘আগে ডুয়ার্সের নদীগুলিতে বোরোলি-সহ কৈ, পুঁটি, সরপুঁটি, বাইন, টাকি, মলা, ভেদার মত বহু দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু ডলোমাইট দূষণের জেরে তিস্তা ও জলঢাকার শাখা নদীগুলিতে মাছই নেই।’’

পরিবেশপ্রেমীরা আরও বলছেন, মাছ না থাকায় পরিযায়ী পাখিরাও আর ডুয়ার্সের নদীগুলিতে ভিড় জমাচ্ছে না। নদী ও ঝোরার জলে ডলোমাইটের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় সেই ঘোলা জল পান করছে না বন্যপ্রাণীরাও। জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী ও ঝোরাগুলির জল পানের অযোগ্য হওয়ায় জলের খোঁজে হাতি, বাইসন-সহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। বাড়ছে মানুষ-বন্যপ্রাণ সংঘাত। পরিবেশপ্রেমী অনিমেষ বসু বলেন, ‘‘হলং, মূর্তি, ডায়না, ডুডুয়া-সহ ডুয়ার্সের সবকটি ছোট-বড় নদীর জলই ডলোমাইট দূষণের শিকার। ওই জলে মাছ যেমন বাঁচতে পারে না তেমনই ওই জল পশু-পাখিদের তেষ্টা মেটাতে ব্যর্থ। উত্তরের নদীগুলির উপর থেকে ডলোমাইটের এই প্রভাব দূর করতে না পারলে ভবিষ্যতে হারিয়ে যাবে বেশ কয়েকটি নদী।’’