• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

রিসর্টে হেনস্থা করে সাসপেন্ড পুলিশ অফিসার

Logo

রাতের অন্ধকারে মদ্যপ অবস্থায় রিসর্টে ঢুকে পর্যটকদের হেনস্থা করার অভিযোগ উঠল এক পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে৷ বুধবার গভীর রাতে লাটাগুড়ির এই ঘটনায় পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে৷ পরে পর্যটকরা নিজেদের সামলে অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিককে আটকে রাখেন৷ খবর পেয়ে ক্রান্তি ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়৷ ঘটনার জেরে ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত পুলিশ অফিসার গোপালচন্দ্র রায়কে সাসপেন্ড করেছেন জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার৷ শাস্তির মুখে মালবাজার থানা ও ক্রান্তি ফাড়ির ওসি-ও৷

শীতের মরসুমে বরাবরই ভিড় লেগে থাকে লাটাগুড়িতে৷ এবারও যার ব্যাতিক্রম হয়নি৷ লাটাগুড়ির প্রায় সব রিসর্টেই এই মুহূর্তে প্রচুর পর্যটক রয়েছেন৷ তেমনই একটি রিসর্টে বুধবার রাত তিনটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে৷ যে রিসর্টের ১২টা ঘরে কলকাতার পর্যটকদের চারটি দলের ৩৬ জন ছিলেন৷ গোটা ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে ক্রান্তি ফাঁড়ির পুলিশ আধিকারিক গোপালচন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে৷ যিনি পুলিশের এএসআই পদে কর্মরত৷

পর্যটকদের অভিযোগ, রাত তিনটা নাগাদ আচমকাই এক সিভিক ভলান্টিয়ার ও একজন স্থানীয় বাসিন্দাকে নিয়ে রিসর্টে প্রবেশ করেন গোপালবাবু৷ মদ্যপ অবস্থায় থাকা গোপালবাবু এরপর একের পর এক ঘরে লাথি মারতে শুরু করেন৷ কলকাতার যোধপুর গার্ডেন থেকে পরিবার নিয়ে লাটাগুড়ি ঘুরতে এসে ওই রিসর্টেই ছিলেন ব্যবসায়ী রাজু দাস৷ তাঁর অভিযোগ, ‘‘অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে লোকটি৷ আমার ছয় বছরের মেয়েও ঘুম থেকে জেগে উঠে বলতে শুরু করে, বাবা ইনি কেমন পুলিশ? আমার স্ত্রী, ৬৩বছরের মা-ও ঘাবড়ে যান৷’’

পাশেই আরেকটি ঘরে ছিলেন কলকাতার আনোয়ার শাহ রোডের বাসিন্দা শুভ্রাংশু বন্দ্যোপাধ্যায়৷ ৮০ বছরের বৃদ্ধ বাবা সহ পরিবারের অন্যদের নিয়ে লাটাগুড়িতে এসেছেন তিনি৷ শুভ্রাংশুবাবুর অভিযোগ, ‘‘লোকটি যে ভাষায়া গালিগালাজ করছিল তা মুখে আনা যায় না৷’’

এ দিকে এমন ঘটনায় প্রথম দিকে পর্যটকরা ঘাবড়ে গেলেও, পরে তাঁরাই রুখে দাঁড়ান৷ বেগতিক দেখে তখন রিসর্ট ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন অভিযুক্ত এএসআই৷ কিন্তু পর্যটকরা তার গাড়ি আটকে দেন৷ ইতিমধ্যে রিসর্টের মালিক দীপঙ্কর দত্ত, ম্যানেজার সহ লাটাগুড়ি রিসর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক দিব্যেন্দু দেব ও অন্যান্য সেখানে পৌছে যান৷ তারাও অভিযুক্ত এএসআই-কে আটকে রাখেন৷

অভিযুক্ত এএসআই হাত জোড় করে ক্ষমা চাইলে তাকে রেহাই দেন সকলে৷ তবে এ দিন সকাল হতেই পর্যটকদের তিনটি দল লাটাগুড়ি ছেড়ে চলে যায়৷

রিসর্টের মালিক দীপঙ্করবাবু বলেন, ১২ব ছর ধরে রিসর্ট চালাচ্ছি৷ এমন ঘটনা কখনও হয়নি৷ রিসর্ট মালিক সংগঠনের সম্পাদক দিব্যেন্দুবাবু বলেন, ‘‘যে ক্রান্তি ফাঁড়ি পর্যটনের উন্নয়নে এত সহযোগিতা করে, সেই ফাঁড়ির এক পুলিশ কর্তার এমন আচরণে পর্যটকরা লাটাগুড়ি ছাড়ছেন ভেবে লজ্জা লাগছে৷’’

প্রাথমিক তদন্তের পর জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত এএসআই-কে সাসপেন্ড করেছেন৷ পাশাপাশি কর্তব্যে গাফিলতির জন্য মালবাজার থানা ও ক্রান্তি ফাঁড়ির ওসিকে শোকজ করেছেন পুলিশ সুপার৷ তিনি বলেছেন, ‘‘এমন ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন