• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

মহিলাকে গণপিটুনি, ইটের ঘায়ে জখম পুলিশ

Beaten
প্রতীকী ছবি।

ছেলেধরা সন্দেহে বহিরাগত এক মহিলাকে গণপিটুনির খবর পেয়ে তাঁকে উদ্ধার করতে গিয়ে ‘আক্রান্ত’ হল মোথাবাড়ি থানার পুলিশ। তিন পুলিশ আধিকারিক-সহ ১৩ জন পুলিশ কর্মী জখম হন। অভিযোগ, পুলিশের দু’টি গাড়িও ভাঙচুর করে উত্তেজিত জনতা। বুধবার রাতে মোথাবাড়ি থানার চকপ্রতাপপুর গ্রামে। পুলিশের উপরে হামলার অভিযোগে ২৬ জন গ্রামবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কালিয়াচক ২ ব্লকের মোথাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের চকপ্রতাপপুর গ্রাম সংলগ্ন হাজিপাড়ায় বুধবার সন্ধ্যায় এক বহিরাগত মহিলাকে ঘোরাফেরা করতে দেখেন বাসিন্দারা। অভিযোগ, রাত ৯টা নাগাদ ওই মহিলা হাজিপাড়ার বছর দশেকের একটি ছেলেকে স্থানীয় একটি লিচু বাগানে নিয়ে যায়। অভিযোগ, মুখে রুমাল ঠেকিয়ে ছেলেটিকে অজ্ঞান করে দেয় ওই মহিলা। গ্রামের কয়েক জন যুবক তা দেখতে পান। তাঁরা ওই মহিলাকে ধরে ফেলেন।

এলাকাবাসী জানান, ছেলেটিকে হাসপাতলে পাঠিয়ে ওই মহিলাকে চকপ্রতাপপুর গ্রামে নিয়ে আসা হয়। গ্রামের কয়েক জন বাসিন্দা এই মহিলাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য মোথাবাড়ি থানায় ফোন করেন। অভিযোগ, গ্রামেরই কয়েক জন ওই মহিলাকে মারধর করতে শুরু করেন। পুলিশ আসার আগেই গোটা এলাকায় ছেলেধরা গুজব ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের চার-পাঁচটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ভিড় জমান। গণপিটুনি আরও বাড়ে।

মোথাবাড়ি থানার বিশাল পুলিশবাহিনী গ্রামে গিয়ে মহিলাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসার চেষ্টা করতেই পরিস্থিতি জটিল হয়। ক্ষিপ্ত গ্রামবাসীদের একাংশ ওই মহিলাকে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। অভিযোগ, তা নিয়ে তাঁদের সঙ্গে পুলিশের খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়। অভিযোগ, পুলিশকে লক্ষ করে ইটপাটকেল ছোঁড়া হয়। ইটের আঘাতে আহত হন পুলিশ আধিকারিক দ্বিজেন রবিদাস ও শ্যামল বর্মণ। সুভাষ টুডু নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের মাথা ফেটে রক্ত পড়তে থাকে। দশ জন সিভিক কর্মীও ঢিলের আঘাতে আহত হন। থানা থেকে  আরও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মহিলা সম্ভবত মানসিক ভারসাম্যহীন। তাঁর পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। মোথাবাড়ি থানার ওসি বিটুন পাল বলেন, ‘‘হামলায় আধিকারিক ও কর্মী মিলিয়ে ১৩ জন পুলিশ জখম হন। ২৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন
আরও খবর

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন