পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও সহকারী সভাপতি নির্বাচন ঘিরে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এল। শুক্রবার হেমতাবাদ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও সহকারী সভাপতি নির্বাচনের পরে সমিতির তৃণমূলের ৬ সদস্যের বিরুদ্ধে দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ উঠেছে। সমিতির ১৫টি আসনের মধ্যে ১৪টি আসনই তৃণমূল দখলে। একটি আসন বিজেপির দখলে রয়েছে।

এ দিন সমিতির সভাপতি ও সহকারী সভাপতি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তৃণমূলের ১৪ জন সদস্য হাজির হলেও বিজেপির একমাত্র সদস্য গরহাজির ছিলেন। সমিতির তৃণমূল সদস্যদের একাংশ সভাপতি ও সহকারী সভাপতি পদে শেখরচন্দ্র রায় ও নিহারি খাতুনের নাম প্রস্তাব করেন। তাঁদের সমর্থন করেন দলের আট সদস্য। বাকি ছ’জন সদস্য শেখর ও নিহারির বিরোধিতা করেন। তাঁদের তরফে সভাপতি ও সহকারী সভাপতি পদে ক্ষীরমোহন সরকার ও দিলওয়ার চৌধুরীর নাম প্রস্তাব করা হয়। শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটিতে ৮-৬ ভোটে জয়ী হয়ে শেখর ও নিহারি নির্বাচিত হন।

গোলমালের আশঙ্কায় সকাল থেকেই সমিতির কার্যালয় থেকে ১০০ মিটার দূরত্ব পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। বেশির ভাগ দোকানপাট বন্ধ ছিল। জয়ীরা হেমতাবাদ পুরনো বাসস্ট্যান্ড থেকে দলীয় কার্যালয় পর্যন্ত বিজয় মিছিল করেন। দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় দত্ত, ‘‘শেখর ও নিহারিকে মনোনীত করতে অমলবাবু লিখিত নির্দেশ দিয়েছিলেন। সমিতির দলীয় ছয় সদস্য সেই নির্দেশ মানলে ভোটাভুটি হতো না।’’

হেমতাবাদ ব্লক তৃণমূল সভাপতি প্রফুল্ল বর্মন জানান, দলের জেলা নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে। ব্লক যুব তৃণমূল সভাপতি সাজাহান আলির পাল্টা দাবি, ‘‘ওই ছয় সদস্যের সঙ্গে আলোচনা না করেই ব্লক ও জেলা নেতৃত্বের একাংশ সভাপতি ও সহকারী সভাপতির নাম চূড়ান্ত করেন। তাই প্রতিবাদে ওই দু’জনকে সমর্থন করা হয়নি।’’ জেলা তৃণমূল সভাপতি অমলবাবুর বক্তব্য, ‘‘নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যাঁরা দলবিরোধী কাজ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’