রাজ্যের কর্ড ব্লাড সংরক্ষণের প্রকল্প আছে, অথচ তা নিয়ে প্রচার নেই— সম্প্রতি উত্তরকন্যায় এই প্রসঙ্গ তুলে খেদ জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরে উত্তরবঙ্গের চিকিৎসক মহলে প্রশ্ন ওঠে, কর্ড ব্লাড সংরক্ষণের মতো পরিকাঠামো কি এখানকার কোনও হাসপাতালের আছে? উত্তরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে বৃহস্পতিবার দেখা গেল, এমন কিছু সংরক্ষণের কোনও পরিকাঠামোই এখনও গড়ে ওঠেনি। শুধু সংরক্ষণই নয়, কর্ড ব্লাড কোন কোন রোগে কাজে লাগে, তা-ও বেশির ভাগ লোকই জানেন না। 

চিকিৎসক মহলের আরও দাবি, বেসরকারি ক্ষেত্রেও তেমন কোনও সংস্থা নেই, যারা উত্তরে কর্ড ব্লাড সংরক্ষণ করে। তবে কলকাতা বা রাজ্যের বাইরে বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা কর্ড ব্লাড ব্যাঙ্কগুলি রক্ত সংরক্ষণের জন্য উত্তরবঙ্গের কিছু জায়গায় তাদের লোক রেখেছে। মাটিগাড়ার একটি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ জানান, তাঁদের হাসপাতালে বেসরকারি ‘কর্ড ব্লাড ব্যাঙ্ক’ থেকে এই সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তার জন্য অবশ্য মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয় সংরক্ষণ মূল্য হিসেবে।

চিকিৎসকদের অনেকেরই বক্তব্য, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্ড ব্লাড ব্যাঙ্ক থাকতে পারে। তবে উত্তরবঙ্গে এর কোনও ইউনিট না থাকলে এই সুবিধা এখানকার লোকেরা পাবেন না বলেই জানিয়েছেন ওই চিকিৎসকেরা। কারণ, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি বিশেষজ্ঞ সন্দীপ সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘কর্ড ব্লাড প্রসবের সময়ই সংগ্রহ করতে হয়।’’ 

কী ভাবে সংরক্ষণ করতে হয় কর্ড ব্লাড? উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের আঞ্চলিক ব্লাড ব্যাঙ্কের অধিকর্তা মৃদুময় দাস জানান, ‘‘কর্ড ব্লাড ব্যাঙ্ক তৈরি করা খুবই খরচ সাপেক্ষ। সেখানে সদ্যোজাতের জন্মের সময় আম্বিলিক্যাল কর্ড থেকে রক্ত সংগ্রহ করে মাইনাস ৮০ ডিগ্রি উষ্ণতায় তা সংরক্ষণ করা হয়। তা থেকে রক্তের উপাদানগুলোকে পৃথক করে ‘ফ্রোজেন’ বা জমাট অবস্থায় রেখে দেওয়া হয়। তা বহু রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।’’ তিনি বলেন, ‘‘ডায়াবেটিস থেকে কিডনির জটিল অসুখ, ব্লাড ক্যান্সারের মতো বহু রোগের চিকিৎসায় এই রক্ত ব্যবহার করা হয়।’’ তিনি জানান, এই কর্ড ব্লাডে রক্তের স্টেম সেল থাকে। তা স্থানান্তর করার পদ্ধতিও জটিল। যার শরীরে ওই রক্ত দিতে হবে, তার ডিএনএ’র চরিত্র মেলাতে হবে, ২০ ধরনের রক্তের বিভিন্ন ফ্যাক্টর মিলতে হবে। তাই এই চিকিৎসা ব্যবস্থা খরচ সাপেক্ষ।