ত্রাণের ত্রিপল বিলির কাজে অনিয়মের অভিযোগ ও লুটপাটের পাল্টা অভিযোগকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে প্রবল উত্তেজনা ছড়াল। 

শনিবার দুপুরে রায়গঞ্জ থানার গৌরী গ্রাম পঞ্চায়েতের নয়াটুলি এলাকার ঘটনা। সংঘর্ষে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মোট ১০ জন কর্মী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের নয়াটলি সংসদের তৃণমূল সদস্য ফুলো খাতুন ও তৃণমূল কর্মী রেজিয়া খাতুন নামে দুই মহিলাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। 

রেজিয়া ফুলোর বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর তৃণমূল কর্মী বলে এলাকায় পরিচিত। এ দিন বিকেলে ফুলোর স্বামী তথা এলাকার তৃণমূল নেতা সফিক শেখ রায়গঞ্জ থানায় রেজিয়া, তাঁর স্বামী আবুল আলি ছাড়াও বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর পাঁচ তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। রেজিয়ার পরিবারের তরফে অবশ্য এ দিন বিকেল পর্যন্ত পুলিশের কাছে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। 

এ নিয়ে উত্তর দিনাজপুরের পুলিশ সুপার সুমিত কুমার বলেন, ‘‘অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশে কেউ অভিযোগ দায়ের করলে সেটাও তদন্ত করে আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে।’’ জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান অমল আচার্যর বক্তব্য, দল গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বরদাস্ত করবে না। নয়াটুলি এলাকায় ঠিক কী ঘটনা ঘটেছিল, তা দলের তরফে খোঁজ নিয়ে দেখে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, মাসখানেক আগে একটানা ভারী বৃষ্টির জেরে নয়াটুলি এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। প্রায় ৫০টি পরিবার জলবন্দি হয়ে পড়ে। দু’সপ্তাহ আগে রায়গঞ্জ ব্লক প্রশাসনের তরফে দুর্গতদের দেওয়ার জন্য নয়াটুলি এলাকায় ৫০টিরও বেশি ত্রিপল পাঠানো হয়। অভিযোগ, সেই ত্রিপল বিলির কাজে অনিয়মের অভিযোগ ও লুটপাটের পাল্টা অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফুলো, সফিক ও তাঁদের অনুগামীদের সঙ্গে রেজিয়া, আবুল ও তাঁদের অনুগামীদের সংঘর্ষ বেধে যায়। দু’পক্ষই পরস্পরের সঙ্গে লাঠিসোটা দিয়ে বেধড়ক মারধরে জড়িয়ে পড়ে। বিবদমান দুই গোষ্ঠীর সদস্যেরা একে অপরকে রাস্তায় ফেলে লাথি ও ঘুসি মারেন বলেও অভিযোগ। গোটা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। 

আবুল শনিবার অভিযোগ করেছেন, ফুলো ও তাঁর স্বামী সফিক কয়েকটি ত্রিপল দুর্গত বাসিন্দাদের দিলেও বাকি ত্রিপল তাঁদের ঘনিষ্ঠদের মধ্যে বিলি করে দেন। আবুলের কথায়, ‘‘এ দিন আমি, আমার স্ত্রী ও এলাকার কিছু তৃণমূল কর্মী ওই ঘটনার প্রতিবাদ করি। এর পরেই ফুলো ও তাঁর স্বামী দলের কিছু কর্মীকে নিয়ে এসে আমাদের উপর হামলা চালান।’’

ফুলোর পাল্টা অভিযোগ, কিছুদিন আগে দুর্গত বাসিন্দাদের মধ্যে ত্রিপল বিলির কাজ চলছিল। সেইসময় আবুল ও রেজিয়া তাঁদের অনুগামীদের নিয়ে সমস্ত ত্রিপল লুঠ করেন।

তিনি বলেন, ‘‘এ দিন দুর্গত বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে আমি আবুলকে ত্রিপল ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলি। তখনই আবুল ও রেজিয়া তাঁদের অনুগামীদের নিয়ে আমাদের মারধর করেন।’’