পাহাড় সমস্যার ফের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের কথা বললেন দার্জিলিঙের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা। তার জন্য কেন্দ্র, রাজ্য ও স্থানীয় সংস্থাগুলির মধ্যে ত্রিপাক্ষিক আলোচনা শুরু হওয়া জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে এর মধ্যেই সেই দাবি জানানো হয়েছে বলেই জানান সাংসদ। একই সঙ্গে তিনি জিটিএকে ‘বেআইনি সংস্থা’ বলেও আখ্যা দেন। মঙ্গলবার শিলিগুড়িতে রাজু বলেন, ‘‘জিটিএ বেআইনিভাবে তৈরি হয়েছে এবং বর্তমানেও বেআইনিভাবে চলছে।’’ দ্রুত জিটিএ ভেঙে দেওয়ার দাবিও তোলেন তিনি।
ভোটে জয়ী হয়ে দিল্লি যাওয়ার পর রবিবার পাহাড়ে ফেরেন সাংসদ। শেষ দু’দিনে কালিম্পং, মিরিক, দার্জিলিং ও কার্শিয়াংয়ে জোটের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সভা করেছেন তিনি। সেই সভায় গত দু’মাসে সাংসদে কী কী বিষয়ে আলোচনা করেছেন, কী কী পরিকল্পনা করেছেন— সে সব ব্যখ্যা করেন তিনি। পাহাড়ের সভা শেষে মঙ্গলবার বিকেলে শিলিগুড়িতে আসেন সাংসদ। দলীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেখানেই ত্রিপাক্ষিক আলোচনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি আলোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করতে। সেই কমিটিতে রাজ্য, কেন্দ্র ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা থাকবেন। স্থানীয় বিশিষ্টদের মতও নিতে হবে। পাহাড়ে স্থায়ী সমাধান কী হবে, সেটা আলোচনার পরই ঠিক হতে পারে।’’ ফের পাহাড়ে পুলিশি জুলুমের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জুলুম বন্ধে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ দাবি করা হবে। 
দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের (ডিএইচআর) জন্য রেলের পৃথক বিভাগ তৈরি জরুরি বলেও জানান রাজু। বলেন, ‘‘ডিএইচআরের ঐতিহ্য আছে। তবে সে ভাবে তার উপর আলোকপাত করা হচ্ছে না। তাই আলাদা বিভাগ হলে বাড়তি গুরুত্ব পেতে পারে ডিএইচআর। এই নিয়ে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে।’’ 
রাজু এ দিন দাবি তোলেন, চা বাগানের শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরি ৩৫০ টাকা করা উচিত। তিনি জানান, খুব তাড়াতাড়ি চা বাগানের জন্য কেন্দ্র নতুন বিল আনছে। তাতে বহু পুরনো প্ল্যানটেশন লেবার অ্যাক্ট মিশে যাবে। ফলে চা শিল্প নীতিতে বদল আসবে। 
সাংসদের জিটিএ ভেঙে দেওয়ার দাবির কড়া সমালোচনা করেন জিটিএ-র চেয়ারম্যান অনীত থাপা। তিনি বলেন, ‘‘আইন মেনেই জিটিএ তৈরি হয়েছে এবং চলছে। কেন্দ্রীয় সরকার পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য কোনও কাজ করছে না। ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের আর্থিক সাহায্য বা ভূমিহীনদের পাট্টা দেওয়া— সব কাজই করছে জিটিএ। পাহাড়ের উন্নয়ন বন্ধ করে ফের আশান্তি ছড়ানোর জন্যই সাংসদ উস্কানিমূলক মন্তব্য করছেন।’’