ফের আলিপুরদুয়ারে ধর্ষণের নালিশ। গত শনিবার ফালাকাটায় এক মূক ও বধির তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ওই যুবক আবার তৃণমূলের কর্মী বলে অভিযোগ ওঠায় পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে বিষয়টি নিয়ে জেলার রাজনৈতিক মহলে রীতিমত হইচই শুরু হয়েছে৷ অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ৷

গত সপ্তাহেই আলিপুরদুয়ারের ভোলারডাবরিতে ষোলো বছরের এক নাবালিকাকে তার প্রেমিকের সামনে গণ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল৷ যে ঘটনায় পাঁচজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হলেও মূল অভিযুক্ত একজন এখনও অধরা৷

এরইমধ্যে ফালাকাটাতে ওই যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাইশ বছরের মূক ও বধির ওই যুবতীর বাড়ি ফালাকাটার একটি গ্রামে৷ যার বিরুদ্ধে ওই যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে, সেই প্রদীপ বর্মনের বাড়ি খানিকটা দূরে দক্ষিণ রাঙ্গালীবাজনা এলাকায়৷

যুবতীর বাড়ির লোকেরা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন থেকেই তাদের বাড়ি থেকে খানিকটা দূরে একটি বাজারের কাছে মেলা বসেছিল৷ গত শনিবার ওই যুবতী তার বাড়ির লোকেদের সঙ্গে সেই মেলায় ঘুরতে যান৷ যুবতীর মায়ের অভিযোগ, মেলায় ঘোরার সময়ই আচমকা আবহাওয়া খারাপ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। তখনই অভিযুক্ত যুবক প্রদীপ বর্মন মোটর সাইকেলে তাঁর মেয়েকে বাড়ি পৌঁছে দেবে বলে৷ তিনি বলেন, ‘‘যুবক আমাদের অত্যন্ত পরিচিত হওয়ায় রাজি হয়ে যাই৷ কিন্তু আমরা বাড়িতে গিয়ে দেখি মেয়ে পৌঁছায়নি৷ এরপরই চারদিকে খোঁজ নিতে শুরু করি৷ তখনই বাড়ির কাছে একটি সেতুর পাশে মেয়ের কাতরানোর শব্দ পাই৷ গিয়ে দেখি ওড়না দিয়ে ওর হাত বাধা৷’’

যুবতীর বাড়ির লোকেদের অভিযোগ, বাড়িতে ফিরে যুবতী ইশারায় তাদের কাছে অভিযোগ করেন, প্রদীপ বর্মন বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার নাম করে মাঝ রাস্তায় তাকে ধর্ষণ করে৷ মঙ্গলবার ফালাকাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন যুবতীর মা৷ তাঁর অভিযোগ, ‘‘গ্রামের কিছু লোক আমাদের ভুল বুঝিয়ে সালিসি করে বিষয়টি মেটানোর চেষ্টা করেছিলেন৷ কিন্তু পরে আমরা নিজেদের ভুল বুঝতে পারি৷ সেজন্যই অভিযোগ জানাতে এই দেরি৷’’

পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে এই ঘটনায় রাজনৈতিক রঙও লেগে গিয়েছে৷ আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের বিদায়ী বিরোধী দলনেত্রী, সিপিএম নেত্রী শুক্লা ব্রহ্ম ঘোষের অভিযোগ, ‘‘অভিযুক্ত যুবক প্রদীপ এলাকায় তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী বলে পরিচিত৷ সেজন্যই ভোটের আগে সালিসি সভা করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কিছু তৃণমূল নেতা৷ আমরা অভিযুক্তের কড়া শাস্তি চাই৷’’ ফালাকাটার বিধায়ক অনিল অধিকারী অবশ্য বলেন, ‘‘অভিযুক্তের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কোন সম্পর্ক নেই। আমরাও তার শাস্তি চাই। দলের কেউ যাতে অভিযুক্তের পাশে না দাঁড়ায় সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷’’

আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার আভারু রবীন্দ্রনাথ বলেন, ‘‘মঙ্গলবার অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরই অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে৷’’