দুর্নীতির অভিযোগে মালদহের রতুয়ার তিন রেশন ডিলারকে সাসপেন্ড করল খাদ্য দফতর। তদন্তের পর দু্র্নীতির প্রাথমিক সত্যতা মেলায় শনিবার তাদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। উপভোক্তাদের অভিযোগ পেয়ে শুক্রবারই তদন্তে গিয়েছিলেন খাদ্য দফতরের কর্তারা। তদন্ত সেরে ফেরার পথে রাতে ভাদো এলাকায় বাসিন্দাদের একপ্রস্থ বিক্ষোভের মুখেও পড়তে হয় খাদ্য দফতরের কর্তাদের। ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ভাদো এলাকায় সামসি-রতুয়া রাজ্য সড়ক অবরোধও করেন বাসিন্দারা। পরে সেখানে বিডিও পৌঁছলে তাকে সামনে পেয়েও ডিলারদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন বাসিন্দারা। সেখানেই সব খতিয়ে দেখে খাদ্য দফতর ও প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তার পর এ দিন তিন ডিলারকে সাসপেন্ড করা হয়। ওই তিন এলাকায় আপাতত খাদ্য দফতরের তরফে উপভোক্তাদের পণ্য দেওয়া হবে বলে জেলা খাদ্য দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে।

জেলা খাদ্য সরবরাহ দফতেরর নিয়ামক আনন্দ বেরিলি বলেন, ‘‘প্রাথমিক তদন্তের পর তিন রেশন ডিলারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তদন্তে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রেশনে পণ্য সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয় সে জন্য দফতরের তরফেই পণ্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’’ রতুয়া-১ ব্লকের বিডিও নীলাঞ্জন তরফদার বলেন, ‘‘পণ্য দেওয়ায় দুর্নীতি কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিন জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।’’

খাদ্য সরবরাহ দফতর ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সাসপেন্ড হওয়া ডিলার আব্দুল হাকিম বিহারি এলাকার বাসিন্দা। প্রেমলাল মণ্ডল ও নুরুল ইসলাম ভাদোর বাসিন্দা। দুর্নীতির অভিযোগে গত সপ্তাহেই বিহারি এলাকায় আব্দুল হাকিমের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভও দেখিয়েছিলেন উপভোক্তারা।

খাদ্য দফতর ও উপভোক্তাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন রেশন ডিলারের অধীনে ১৬ হাজারেরও বেশি উপভোক্তা রয়েছেন। ভাদোর নুরুল ইসলামকে আবার বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। চণ্ডীপুর এলাকার রেশন ডিলার সম্প্রতি ইস্তফা দেওয়ায় সেই এলাকার পণ্য দেওয়ার দায়িত্বও ছিল তার। কিন্তু চাল, গম, কেরোসিন তেল থেকে শুরু করে চিনি সব পণ্যই বাসিন্দাদের প্রয়োজনের তুলনায় কম দেওয়া হতো তাই নয়, চিনি সরবরাহ নেই জানিয়ে তা দেওয়াই হয় না বলে অভিযোগ উপভোক্তাদের। এমনকী, পণ্য সরবরাহ হচ্ছে না বলে নিয়মিত দোকানও খুলতেন না তারা বলে অভিযোগ। শুক্রবার তদন্তে গিয়ে দোকান বন্ধ রাখা বিষয়টি নজরে আসে খাদ্য দফতরের কর্তাদেরও।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে এক উপভোক্তা তথ্য জানার অধিকার আইনে উপভোক্তাদের প্রাপ্য জানতে চেয়ে আবেদন করেন। তার বিস্তারিত বিবরণ জানার পরেই পণ্য কম দেওয়া হচ্ছে জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন উপভোক্তারা। এর পর অভিযোগ জানান।

যদিও আব্দুল হাকিম এ দিন বলেন, ‘‘পণ্য বিলি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ঠিক নয়।’’ আবার নুরুল ইসলাম ও প্রেমলাল মণ্ডলের দাবি, ‘‘আমরা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নই। তবে পণ্য না থাকলে অনেক সময় দোকান বন্ধ থাকত। সাসপেনশনের চিঠি আমরা এখনও পাইনি।’’

রতুয়া-১ ব্লকের খাদ্য সরবরাহ আধিকারিক রাজীবলোচন সিংহরায় বলেন, ‘‘বিকেলেই ওদের সাসপেনশনের চিঠি ধরিয়ে হয়েছে।’’ ভাদোর বাসিন্দা মাসুদ আলম, মহম্মদ নাজির হোসেনরা বলেন, ‘‘দীর্ঘ দিন ধরেই দুর্নীতি করছিলেন ওই ডিলাররা। কিছু জানতে চাইলে উল্টে তাঁরা উপভোক্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন। প্রশাসন ব্যবস্থা নেওয়ায় আমরা খুশি।’’