ফের ছেলেধরার আতঙ্ক ছড়াল আলিপুরদুয়ারে। তার সঙ্গেই ছেলেধরার গুজবে গণপিটুনির আশঙ্কাও জোরালো হয়েছে।

আলিপুরদুয়ারের পাটকাপাড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে, গভীর রাত হলেই বাড়িতে কালো পোশাক পরে বাড়িতে হানা দিচ্ছে কেউ৷ হানা দিয়েই ঘরে থাকা শিশুকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ৷ অথচ, ধরতে গেলেই না কি উধাও হয়ে যাচ্ছে সে৷ এই গুজব নিয়েই এখন চিন্তায় পুলিশ-প্রশাসন সহ বিভিন্ন মহল৷ কারণ গত বছর এমন ছেলেধরা গুজবের জেরেই উত্তরবঙ্গ-সহ রাজ্য, এমনকি দেশের নানা প্রান্তে গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে৷ গিয়েছে বহু প্রাণ। তাই পাটকাপাড়ার ঘটনার জেরেও যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় তা নিশ্চিত করতে এখন থেকেই সতর্ক পুলিশ৷

আলিপুরদুয়ার শহর থেকে প্রায় ১২ কিমি দূরের পাটকাপাড়ার বাসিন্দাদের দাবি,  প্রায় ১৫দিন ধরে পাটকাপাড়া চা বাগানের বিভিন্ন লাইন-সহ বাগান সংলগ্ন উত্তর কিংবা মধ্য পাটকাপাড়াতেও এই ঘটনা প্রায় প্রতি রাতেই ঘটে চলছে৷ বুধবার বিষয়টি নিয়ে আলিপুরদুয়ার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন অজিতচন্দ্র রায় নামে এক বাসিন্দা৷ অজিতের বাড়ি মধ্য পাটকাপাড়ায়৷ অন্য দিনের মত মঙ্গলবার রাতে ঘরের দরজা ভাল করে বন্ধ করে একটি বিছানায় ঘুমিয়েছিলেন তিনি৷ ঘরেরই অন্য একটি বিছানায় ছিলেন তাঁর স্ত্রী ও সাড়ে তিন বছরের শিশু কন্যা৷ 

অজিতের অভিযোগ, “রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ আচমকাই সেই ব্যক্তি স্ত্রীর সঙ্গে শুয়ে থাকা আমার মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে৷ আমার স্ত্রীও মেয়েকে ধরে টানাটানি করতে শুরু করে৷ শব্দ পেয়ে আমি উঠে পড়ি৷ ঝাঁপিয়ে পড়ে কোনওমতে সেই ব্যক্তির পা দুটে আটকে রাখি৷ চিৎকার শুনে বাড়ির অন্যরা আমার ঘরের সামনে চলে আসে৷ তাদের কথাতেই ওই ব্যক্তির পা ছেড়ে দরজা খুলি৷ বাকিরা আলো নিয়ে ঘরে ঢোকে৷ ঘরের আলোও জ্বালানো হয়৷ কিন্তু ততক্ষণে বন্ধ ঘর থেকে উধাও হয়ে যায় সেই ব্যক্তি৷” স্থানীয় বাসিন্দা ঋষিকেশ রায়ের অভিযোগ, “প্রায় প্রতিদিনই রাতের অন্ধকারে কোনও না কোনও বাড়িতে এই ঘটনা ঘটছে৷ কোথাও শিশুকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তো কোথাও দরজা নেড়ে চলে যাচ্ছে৷” এই ঘটনার জেরে সন্ধ্যা হলেই বাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ করে দিচ্ছেন বাসিন্দারা৷ রাত হলেই প্রায় দু’শো গ্রামবাসী আলাদা আলাদাভাবে কুড়ি-পঁচিশজনের দল গড়ে বিভিন্ন জায়গায় পাহারায় নামছেন৷ 

পুলিশের সন্দেহ, কেউ বা কারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছেলেধরা আতঙ্ক ছড়াচ্ছে৷ আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠী বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি৷ এই ঘটনায় পুলিশ যথেষ্ট সতর্ক রয়েছে৷ যে বা যারা এটা করছে তাদের চিহ্নিত করে ধরতে থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ তবে সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও আমাদের প্রয়োজন৷ কেউ যাতে অযথা গুজব না ছড়ান বা গুজবে কান না দেন সে ব্যাপারে এলাকায় প্রচার চালানো হবে৷” সোশ্যাল মিডিয়াতেও গুজব ছড়ানো হচ্ছে কি না তা দেখা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাদের তরফেও ইতিমধ্যেই দিনে-রাতে টহল শুরু হয়েছে৷ রাতে এলাকায় সিভিক পুলিশও মোতায়েন করা হচ্ছে৷ এর পাশাপাশি গুজব এড়াতে পুলিশ কর্তারা এলাকায় মাইকিং করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷ সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও যাতে বিষয়টি নিয়ে কেউ গুজব না ছড়ান, সেটাই মাইকিং করে বলা হবে বলে জানান পুলিশ কর্তারা৷