দীর্ঘদিন পর বাগডোগরা বিমানবন্দরের রানওয়ে মেরামতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বায়ুসেনা কর্তৃপক্ষ। এয়ারপোর্ট অথারিটি অব ইন্ডিয়াকে (এআইআই) তা জানিয়েও দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দর সূত্রের খবর, পুরোদস্তুর সংস্কারের জন্য তাই আগামী নভেম্বরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ভোর অবধি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনও বিমান ওঠানামা করবে না। গোটা রাত ধরে চলবে রানওয়ের সংস্কারের কাজ। যতটা দ্রুত সম্ভব ওই কাজ শেষ করার কথাও জানানো হয়েছে।

বাগডোগরা সামরিক বিমানবন্দর হিসেবেই দেশে চিহ্নিত। বিমানবন্দরের এটিসি এবং রানওয়ে বায়ুসেনার নিয়ন্ত্রণাধীন। তারই একটি অংশ সাধারণ বিমানবন্দরের জন্য ব্যবহার করতে দিয়েছে বায়ুসেনা। রানওয়ে মেরামতির কথা ঘোষণার পর শীতের মরসুমের বিমান-সূচি তৈরি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে এএআই। এখন সন্ধ্যা ৭টার পরেও বিমান ওঠানামা করে। কোনও সময় রাত ৮টার পরেই বিমানবন্দর চালু থাকে। 

সংস্কারের সময়ে সন্ধ্যার পরে বিমানের সময়সূচি কী হবে, তা নিয়ে চলছে পর্যালোচনা। বায়ুসেনা সূত্রের বক্তব্য, ২-৩ বছরের মধ্যে বিমানবন্দরের ভোলবদল হওয়ার কথা। তাই রানওয়ের আগাম সংস্কার-সহ জরুরি কাজগুলি সেরে রাখা হচ্ছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই কাজ শুরু হবে। বাগডোগরা বিমানবন্দরের অধিকর্তা সুব্রহ্মণী পি বলেন, ‘‘আগামী নভেম্বর থেকে রানওয়ে সংস্কারের কাজ। তাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বিমান ওঠানামা করবে না। সেই মতো বদলাবে শীতের বিমান সূচি।’’ বিমানবন্দরের একটি সূত্র জানাচ্ছে, প্রতি বছরই নভেম্বর থেকে নতুন সূচি তৈরি হয় দেশ জুড়ে। এ বারে সেই সূচি তৈরি হওয়ার আগেই আলোচনা সেরে সব ঠিক করে নিতে চাইছেন এএআই কর্তৃপক্ষ।

বিমানবন্দর সূত্রের খবর, ২৭৫৪ মিটার বা ৯০৩৫ ফুটের রানওয়েটির সংস্কার হয়নি প্রায় এক দশক। এখন কংক্রিট বা অ্যাসফল্টের তৈরি রানওয়ের উপরের অংশ কিছু অংশে নষ্ট হতে বসেছে। বিমানের ওঠানামার সময় কম্পনও টের পাওয়া যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বায়ুসেনার তরফে রানওয়ে নিয়ে সমীক্ষা করে তা সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

বাগডোগরার রানওয়ে রোজ ৩৭ জোড়া বিমান ব্যবহার করছে। এ ছাড়াও বায়ুসেনার নিজস্ব মিগ-২১, মালবাহী বিমান, এমনকি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানও এই রানওয়েতে নামে। এএআই-র ক’জন অফিসার জানান, বাগডোগরায় প্রতি বছর বিমান বাড়ছে। আগামী দিনে নতুন টার্মিনালের সঙ্গে নতুন রানওয়ের কথাও ভাবতে হবে।