প্রায় ১৭ ঘণ্টা ধরে চলেছে টানা বৃষ্টি। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হয়েছিল বৃষ্টি। তারপর থেকে কখনও ঝিরিঝিরি কখনও মুষলধারে হয়ে থেমেছে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ। তার জেরে জল জমে গিয়েছে শহরের বহু এলাকায়। কাজের দিনে এমন বৃষ্টির ফলে সমস্যায় পড়েছেন শহরবাসী। ভোগান্তিতে পড়ে স্কুল পড়ুয়ারাও। সোশ্যাল সাইটে অনেকে পোস্টও করেন। একজন লেখেন, ‘দুই তিনদিন উত্তরবঙ্গকে রোদ দিয়ে একটু দক্ষিণবঙ্গ ঘুরে আয় বৃষ্টি, আমরা পচে গেলাম, একটু শুকিয়েনি সব।’

আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, হিমালয়ের পাদদেশ এলাকায় মৌসুমী অক্ষরেখা নতুন করে জাঁকিয়ে বসায় জোর বৃষ্টি শুরু হয়েছে। শিলিগুড়ি-সহ নানা এলাকায় গভীর নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েকদিন পরিস্থিতি এমনই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। গত ২৪ ঘণ্টায় শিলিগুড়িতে ১৮০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, বর্ষায় শিলিগুড়িতে গড়ে ৩৬০০ মিলিমিটার মত বৃষ্টি হয়। সেখানে জুলাইতেই ২০৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়ে গিয়েছে। মরসুমের আরও দু’মাস বাকি রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে তা নিয়ে চিন্তায় প্রশাসন থেকে বাসিন্দা সকলেই। সমতলের তুলনায় কম হলেও বৃষ্টি চলছে পাহাড়েও। তবে বুধবার পর্যন্ত সেখানে ধসের কোনও খবর নেই বলে জানিয়েছেন জেলাশাসক। 

বুধবার সকাল থেকে শহরের বহু জায়গায় জল জমে যায়। হায়দরপাড়া, পূর্ব বিবেকানন্দপল্লি, হাকিমপাড়া, অশোকনগর, হাসপাতাল মোড়, চিলড্রেন্স পার্কে জল জমেছে। এছাড়া শক্তিগড়, সন্তোষীনগর, এনজেপি শহিদ কলোনি, ঘোঘোমালি, চয়নপাড়াতেও একই ছবি। জল জমার অভিযোগ উঠেছে মিলনপন্নি, জংশন লাগোয়া এলাকা, গেটবাজার, দেবাশিস কলোনির মত এলাকা থেকেও। টানা বৃষ্টিতে পুরসভার ৪৬, ৪০, ৩৫, ৩১, ৩২, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডগুলোর অবস্থা বেশ খারাপ বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। অনেক ওয়ার্ডেই নর্দমা উপচে জল এসেছে রাস্তায়। জল জমে গিয়েছে এনজেপির অম্বিকানগর আন্ডারপাসে।

বুধবার রাতেও ফের বৃষ্টি শুরু হয় শিলিগুড়ি শহরে।

বিরোধীদের অভিযোগ, শহরের বহু নর্দমা, বড় নিকাশি নালা বর্ষার আগে সঠিকভাবে সাফ না হওয়ায় জল জমছে। যদিও মেয়র অশোক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘তিনটি ওয়ার্ড ছাড়া শহর থেকে জল নেমেছে। এশিয়ান হাইওয়ের জন্য কিছু নিকাশির সমস্যা হচ্ছে। আর নর্দমা পরিষ্কার বলেই জল জমে থাকছে না। আসলে এ বার বৃষ্টি বেশি হচ্ছে।’’ পুরসভার ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের পক্ষ থেকে আর ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানীয় কাউন্সিলরের তরফ থেকে খি‌চুরি বিলি হয়েছে।