• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ছেলের খুনের তদন্ত এগোয়নি, ক্ষোভ মায়ের

মাস দুয়েক আগে শিলিগুড়ি লাগোয়া দাগাপুরে বাইক দুর্ঘটনায় দুই যুবক-যুবতীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে বলে পুলিশের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছিল।

মাসখানেক পরে যুবকের মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। অভিযোগ দায়েরের পরে আরও মাসখানেক হতে চললেও, তদন্তে কোনও অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন নিহত যুবকের মা। বুধবার গ্যাংটক থেকে শিলিগুড়িতে এসে সাংবাদিক বৈঠক করেচেন নিহতের মা সান্মায়া গুরুঙ্গ। শিলিগুড়ির একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরাও সান্মায়া-র সঙ্গে ছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশ যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করছে না। দ্রুত কোনও পদক্ষেপ না হলে, মানবাধিকার কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তাঁরা।

শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মাকেও অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে নিহতের পরিবারের দাবি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগ পেয়ে শিলিগুড়ির ডেপুটি কমিশনার (ট্র্যাফিক) শ্যাম সিংহকে তদন্তে নজরদারি করতে কমিশনার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ডেপুটি পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘‘জরুরি ভিত্তিতে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই রিপোর্ট বিশেষজ্ঞ মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তের কারণে সবটা বলা সম্ভব নয়। তবে সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যাদের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, তারা সকলেই ভিনরাজ্যের বাসিন্দা। অভিযুক্তদের মধ্যে নেপাল এবং অসমের বাসিন্দাও রয়েছে। গত ১১ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে দাগাপুর এলাকায় একটি বাইক দুর্ঘটনা হয় বলে প্রধাননগর থানায় খবর যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে নরবু তামাঙ্গ (২১) এবং ভেনিসা লামা (২০) নামে দুই যুবক যুবতীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। নিহতেদর সঙ্গে থাকা বন্ধু-বান্ধবীদের থেকে পুলিশ জানতে পারে একটি বাইকে তিন জন আরোহী ছিল। নিহত নরবু এবং ভেনিসা বাইকের পিছনে ছিল, তাঁরা হেলমেট পড়ে ছিলেন না। অন্যদিকে বাইকের চালক আরেক যুবক হেলমেট পড়ে বাইক চালাচ্ছিলেন বলে সঙ্গীরা পুলিশকে জানায়। তাদের দাবি, বাইকটি জোরে থাকায় রেললাইন পার হতে গিয়ে পিছলে যায়। হেলমেট পড়ে থাকার কারণে চালক প্রাণে বেঁচে গেলেও, অরোহীদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে পুলিশ জানতে পেরেছিল। এই ঘটনার পরে ট্র্যাফিক আইন ভাঙা সহ বেপরোয়া বাইক চালানোর অভিযোগে, চালক যুবককে গ্রেফতারও করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নিহত নরবুর মা সান্মায়া দেবী জানিয়েছেন, ঘটনার দিন সকালেই নরবু বন্ধুদের সঙ্গে গ্যাংটক থেকে শিলিগুড়ি পৌঁছয়। শিলিগুড়িতে আগে থেকেই নরবুর কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবী ছিলেন। সে দিন রাতে সকলে মিলে ‘পার্টি’ও করে বলে সান্মায়া দেবী জানতে পারেন। এ দিন তিনি বলেন, ‘‘আমি শুনেছি সকলে মিলে বিয়ার খেয়েছিল। ফেরার পথে ওকে বাইকে বসিয়ে হোটেলে নিয়ে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও, ওর এটিএম কার্ড থেকে শুরু করে নগদ টাকা কোনও কিছুরই হদিশ মেলেনি।’’

পরিবারের দাবি, পরিকল্পনা করেই বাইক থেকে ফেলে দিয়ে নরবুকে খুন করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্যাংটক থেকে ডেকে অনে কয়েকজনকে জেরা করা হয়েছে। নিহতদের পরিচিত কয়েকজন শিলিগুড়ির বাসিন্দাকেও জেরা করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নিয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত পাওয়ার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। যদিও, নিহতের পরিবারের আশঙ্কা, পদক্ষেপ করতে দেরি হলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যেতে পারে।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন