বিহার, ঝাড়খণ্ডের পর এ বার ওড়িশায় সোনার খোঁজে পুলিশ। শহরের বর্ধমান রোডের সোনা বন্ধক রেখে ঋণদানকারী সংস্থায় লুটের ঘটনার তদন্ত করতে এমনই পথে এগোচ্ছে শিলিগুড়ি পুলিশ। পুলিশ সূত্রের খবর, বুধবার দুপুরে ঘটনার বিশেষ তদন্তকারী দলের একদল সদস্য ওড়িশা রওনা হয়েছেন। ২৪ অগস্ট ডাকাতির পরে দুষ্কৃতী দলটি বিহার এবং ঝাড়খণ্ডের দিকে পালায় বলে পুলিশ খবর পায়। সেখানে একটি পুলিশ দল তল্লাশি চালালেও অভিযুক্তদের কোনও হদিস মেলেনি। কিন্তু মঙ্গলবারই কয়েকটি মোবাইল ফোনের কিছু সূত্র মারফত পুলিশ খবর পায়, সম্ভবত ওই দলের ২-৩ জন সদস্য ওড়িশার ভুবনেশ্বর, পুরীর মতো নানা শহরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। লুট করার সোনা বিক্রির জন্য বিভিন্ন চোরা কারবারিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টাও চলছে। এর পরেই আর দেরি না করে এ দিনই পুলিশের দলটি ওড়িশা রওনা হয়ে গিয়েছে।

শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের এক কর্তা জানান, ‘‘প্রায় ৪৮ কেজি সোনা লুটের পর গোটা রাজ্যে তো বটেই, আশেপাশের বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশকেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল। সেই মতো নানা খবর আসা শুরু করেছে। এখনও সম্ভবত সমস্ত সোনা দুষ্কৃতী দলটি বিক্রি করতে বা লুকিয়ে ফেলতে পারেনি। তা বিক্রির আপ্রাণ চেষ্টা চলছে। সেই ভিত্তিতেই ওড়িশার কিছু খবর এসেছে। পুলিশ দলও রওনা হয়েছে।’’

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সেনাবাহিনীর পরীক্ষা দেওয়ার নাম করে অগস্টের মাঝ বরাবর ওই দুষ্কৃতীরা শহর লাগোয়া বাগডোগরায় বাড়ি ভাড়া নেয়। সেখানে লোকজনকে তারা জানায়, বেংডুবি, শালুগাড়া সেনা ছাউনিতে তাদের পরীক্ষার রয়েছে। পরপর ৫-৭ জন যুবক ওই বাড়িতে ঘাঁটি করে বসে। পুলিশ তদন্তে নেমে নিশ্চিত, পরীক্ষা এবং তার প্রস্তুতির কথা বলে নিয়মিত বর্ধমান রোডে গিয়ে রেকি করত দুষ্কৃতীরা। ওই এলাকায় সম্ভবত তাদের কোনও পূর্ব পরিচিত ছিল, মনে করছে পুলিশ। শেষে, বিহারের দিক থেকে একটি গাড়ি এবং দু’টি মোটরবাইক শহরে আনানো হয়। রাতারাতি সেগুলির শিলিগুড়ি নম্বরের ভুয়ো নম্বর প্লেট বসিয়ে দেওয়া হয়। যা আগে থেকে তৈরি করে রাখা ছিল। শেষে, ২৪ অগস্ট, শনিবার দুপুর ৩টে নাগাদ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দলটি সংস্থাটিকে হানা দেয়।

পুলিশের ধারণা, লুটের পর বড় বড় ব্যাগে সেগুলি নিয়ে সোজা বাগডোগরা হয়ে বিহারের দিকে পালায়। তদন্তকারী অফিসারেরা জানিয়েছেন, রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ ও কয়েকটি মোবাইল নম্বরের ভিত্তিতে তদন্তে এগোলেও বোঝা যায়, দলটি বিহার, ঝাড়খণ্ডের দিকে পালিয়ে গিয়েছে। পরে একদল উত্তরপ্রদেশের দিকেও যেতে পারে বলে খবর আসে। সেগুলি খতিয়ে দেখা হলেও খুব একটা সুস্পষ্ট তথ্য পুলিশ পাচ্ছিল না। তদন্ত কার্যত এক জায়গায় ঘুরপাক খাচ্ছিল।

এর মধ্যে গ্রেনেড উদ্ধার থেকে পরপর ডাকাতি, ছিনতাই, চুরির ঘটনায় পুলিশ চাপে পড়ে যায়। বিশেষ করে বিরোধীদের পর খোদ তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা মন্ত্রী গৌতম দেব পুলিশের নজরদারি নিয়ে উদ্বেগ এবং অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পুলিশ সূত্রের খবর, ঘনিষ্ঠমহলে পুলিশকে আরও সক্রিয় হতে হবে বলেও মন্ত্রী জানিয়ে দেন। কলকাতা এবং শিলিগুড়ির উচ্চ পদস্থ অফিসারদের সঙ্গেও মন্ত্রী কথা বলেছেন। এর মধ্যে ওড়িশা থেকে খবর আসতেই আর দেরি করতে চাননি অফিসারেরা। আজ, বৃহস্পতিবারের মধ্যেই এলাকায় পৌঁছে তদন্তে নামার প্রস্ততি নিয়েছেন অফিসারেরা।