অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা ছড়াল গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে। মঙ্গলবার দিনভর দফায় দফায় ঘেরাও, অবস্থান বিক্ষোভ চলে খোদ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ঘরেই। অভিযোগ, উপাচার্য স্বাগত সেন-সহ কর্তৃপক্ষের একাংশকে ঘরবন্দি করে রাখেন আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের একাংশ। তাঁদের মুক্তির দাবিতে উপাচার্যের ঘরের সামনে বসে পাল্টা অবস্থান বিক্ষোভ দেখান শিক্ষকদের একাংশ। এ দিন রাতে বিক্ষোভের জেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন উপাচার্য এবং রেজিস্ট্রার বিপ্লব গিরি। তাঁদের রাতেই মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। 

গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে ফুড ও নিউট্রেশন বিভাগে এক ছাত্রের ভর্তিতে বেনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে সরব হন বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্রছাত্রীদের একাংশ। এ দিন দুপুর ১২টা নাগাদ উপাচার্যের ঘরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করে দেন তাঁরা। এ দিকে, তাঁদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্টের অভিযোগ তুলে পাল্টা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন অন্য গোষ্ঠীর ছাত্রছাত্রীরা। ফলে দু’পক্ষের বিক্ষোভকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। এরই মধ্যে ভর্তি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগকারীরা ঢুকে পড়েন উপাচার্য স্বাগত সেনের ঘরে। সেখানে উপাচার্য, ভারপ্রাপ্ত সহকারী রেজিস্ট্রার বিপ্লব গিরি, বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ সমূহের পরিদর্শক অপূর্ব চক্রবর্তীকে ঘরে রেখে ভিতর থেকে তালা বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। 

আরও অভিযোগ, সেই সময়ে অন্য শিক্ষকদেরও ভিতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। শিক্ষকদের একাংশ আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের উপাচার্যের ঘরের তালা খুলে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। তার পরেও আন্দোলনকারীরা তালা না খোলায় উপাচার্যের ঘরেই সামনেই বসে পড়েন ক্ষুব্ধ শিক্ষকদের একাংশ। শিক্ষক বিকাশ রায় বলেন, “ছাত্রছাত্রীদের দাবিদাওয়া থাকতেই পারে। তবে কর্তৃপক্ষকে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখানোর ঘটনা অনৈতিক। আর এমন চলতে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়। তাই আমরা শিক্ষকেরা মিলে উপাচার্যের ঘরের সামনে প্রতীকী অবস্থান বিক্ষোভ দেখায়।”

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

আন্দোলনকারী ছাত্র প্রতাপ ঘোষ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনিয়ম ভাবে এক ছাত্রকে ফুড ও নিউট্রেশন বিভাগে ভর্তি নেয়। অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে উপাচার্যের কাছে গেলে একদল বহিরাগত মেয়েদের ধাক্কাধাক্কি করেন। উপাচার্য-সহ কর্তৃপক্ষের মদতেই অনিয়ম চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। তারই প্রতিবাদে আমাদের আন্দোলন।” 

ছাত্রছাত্রীদের এই দাবি মানতে নারাজ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। উপাচার্য বলেন, “এগজ়িকিউটিভ কাউন্সিলের বৈঠক করে ছাত্র ভর্তি নেওয়া হয়েছে। এ বারে ছাত্র ভর্তি নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। তার পরেও বিশ্ববিদ্যালয়কে কালিমালিপ্ত করতে কিছু অধ্যাপক পড়ুয়াদের উস্কানি দিয়ে অনৈতিক ভাবে আমাদের ঘেরাও করে।” 

উপাচার্যের দাবি, তাঁদের বাথরুম যেতেও বাধা দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। তা নিয়ে তদন্ত চলছে। তাই মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য মিথ্যে অভিযোগ তুলে ছাত্র আন্দোলন করা হচ্ছে। উচ্চ শিক্ষা দফতরে বিষয়টি জানানো হবে।”