অসময়ে বৃষ্টির কারণে বেশ ঠাণ্ডা পড়েছে শিলিগুড়িতে। ঠাণ্ডা থাকলেও ‘কুল’ রোখে কে! লুকিয়ে চুরিয়ে কুল খাওয়ার পরেই অনেকেই অঞ্জলি দিয়েছে শনিবার। পুরাণ, লোকাচার নিয়ে এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা ভাবছে না বলেই জানিয়েছে।

ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মৈনাকের কাছে সরস্বতী পুজোর আগে কুল খাওয়া বা না খাওয়া কোনও ব্যাপার নয়। সে জানাল, কুল খেয়েই অঞ্জলি দিয়েছে। তার কথায়, ‘‘স্কুলের কয়েকজনের কাছে শুনেছি কুল খায় না। তবে আমি ভাল করে পড়াশোনার উপরই জোর দেই। কুল খাওয়া না খাওয়া আমার কাছে পুজো বা অঞ্জলিতে বাধা হয় না।’’ নির্মলা কনভেন্টের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ঐশি ঘোষের কাছেও পুজোর আগে কুল খেতে ভয় থাকলেও তা অতটা বড় নয়। ওর কথায়, ‘‘শুনেছি, কুল খেতে নেই। হালকা ভয় হয়। কিন্তু খুব খেতে ইচ্ছে করে। বাড়ির বাধা না থাকলে হয়তো খেয়ে ফেলতাম।’’

নেতাজি গার্লস স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী হিমাশ্রী পাল বা নেতাজি বয়েজ স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র জয় সাহারাও জানিয়েছে, ছোটবেলায় এগুলোও মানত তারা। কিন্তু এখন আর সেগুলো মানা হয় না তার কারণ কুল খেয়েও পরীক্ষার ফলে কোনও প্রভাব পড়েনি, গম্ভীর মুখে জানায় জয়। 

 পুরাণ না মানলেও বিদ্যা চলে যাওয়ার ভয়েই পুজোর আগে কুল খায় না নেতাজি গার্লসের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী পিয়াসি কর্মকার বা জিৎ হালদাররা। তাদের নাছোড় দাবি, পুজোর আগে কুল খেলেই সব বিদ্যা চলে যেতে পারে। তাই কোনওবারই তারা পুজোর আগে কুল খায় না বলে জানায় তারা। বাড়ির বকুনি বা স্কুলের শিক্ষিক-শিক্ষিকাদের বারণ মেনেই চলে। 

অনেকে বলেন স্বাস্থ্যগত কারণেও সরস্বতী পুজোর আগে কুল খাওয়া ঠিক না। কারণ মাঘ মাসের মাঝামাঝি সময়ের আগে কুল কাঁচা বা কষযুক্ত থাকে। সেগুলো খেলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে বলে মনে করছেন চিকিৎসকদের অনেকেই।

শিলিগুড়ির প্রবীণ চিকিৎসক শৈলজা গুপ্ত বলেন, ‘‘একদম কাঁচা কুল খেলে সবার শরীরেই অম্লত্ব বাড়তে পারে। বদহজম হতে পারে।’’