অবরোধে আটকে পড়েছিল লঙ্কা বোঝাই ট্রাক। স্কুলের ইউনিফর্মে অবরোধকারীদের দেখে ট্রাক থেকে নেমে আসেন চালক উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা রাম শব্বর। দ্রুত ট্রাক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করতে গিয়ে তিনি পড়ুয়াদের থেকে শোনেন রাজ্য সরকার স্কুলে দু’মাসের ছুটি ঘোষণা করেছেন। কিন্তু পড়ুয়ারা পড়তে চেয়ে স্কুল খোলার দাবিতে অবরোধ করছে। বিস্মিত ট্রাক চালক মন্তব্য করেন, “এখানে পড়াশোনা করার দাবিতে অবরোধ হয়।” অবরোধকারীদের ‘লাগে রহো, বেটা’ বলে ফের তিনি ট্রাকে উঠে পড়েন।

জলপাইগুড়ির বেরুবাড়ির রাস্তায় মঙ্গলবারের ঘটনা। স্কুলে পড়াশোনা করতে চেয়ে এ বার ‘সংগ্রাম কমিটি’ গঠন করল পড়ুয়ারা। রাজ্য সরকার দু’মাস স্কুলে ছুটি ঘোষণা করার দিন থেকেই জলপাইগুড়ির বেরুবাড়িতে আন্দোলন চলছে। মূলত মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরাই আন্দোলনের প্রথন সারিতে। তাদের সকলেরই একটাই চিন্তা, স্কুল না থাকলে পাঠক্রম শেষ হবে কী করে? বেরুবাড়ি তফসিলি ফ্রি হাই স্কুলের পড়ুয়ারা পড়াশোনা করতে চেয়ে এ দিন মঙ্গলবারেও পথ অবরোধ করল। প্রায় ৪০ মিনিট অবরোধ চলে। অন্য অবরোধে আটকে পড়া যাত্রীদের বিরক্তি প্রকাশ করতে দেখা যায়। এ দিন দেখা গিয়েছে উলট পুরান। হলদিবাড়ির দিকে যাওয়া সরকারি বাস থেকে জনা কয়েক যাত্রী গিয়ে অবরোধকারীদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে পড়েন। এক সরকারি কর্মীও ছিলেন সেই দলে। তিনি বলেন, “ছাত্রছাত্রীদের দাবি তো ন্যায্য। পড়াশোনা করার জন্য আন্দোলন করতে হচ্ছে, এটা ভাবতেই পারছি না।” এ দিনও স্কুলের পড়ুয়াদের একাংশ ঘড়ির কাটা ধরে স্কুলে এসেছিল। যদিও স্কুলে পড়ানোর কেউ ছিলেন না।  নিজেদের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই আন্দোলন বলে দাবি কমিটির। স্কুলের প্রধান শিক্ষক অমিতাভ নিয়োগী অবরোধের কথা জানেন। তিনি বলেন, ‘‘পড়ুয়াদের আন্দোলনটি সামাজিক দিকে মোড় নিয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার কোনও মন্তব্য করার নেই।’’