পুজোয় অষ্টমী পর্যন্ত কলকাতায় ছিলেন। সেখানে পুজো দেখেছেন। কিন্তু বাড়ি আসার জন্য মনও টানছিল খুব। সেই টানেই বৃহস্পতিবার নবমীর দুপুরে বাড়ি এসেছিলেন স্বপ্না বর্মণ। রবিবার তিনি বলেন, ‘‘আমি সকলকে লুকিয়ে চুপচাপ বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ি চলে এসেছি। আমি একদম আমার নিজের মতো করে দু’চারদিনের জন্য বাড়িতে এসেছি। পরিবারের সঙ্গে কাটাতে চাই। বিজয়ার আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানাই সকলকে।’’

রবিবার সকালে ঘুম থেকে উঠেই স্নান সেরে লাল পাড় তসরের শাড়িতে সেজেছেন স্বপ্না। ততক্ষণে বাড়ির সকলেই স্নান সেরে প্রস্তুত। বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে দু’টো টোটো। বাড়ির মন্দিরে প্রণাম করে স্বপ্না এসে উঠে বসলেন দাদা অসিত বর্মনের মোটরবাইকে। পরিবারের সকলে মিলে ঘুরতে বেরচ্ছেন? তড়িঘড়ি স্বপ্না বললেন, ‘‘পুজো দিতে যাচ্ছি। ভ্রামরী দেবীর মন্দিরে। বাড়ির সকলের মঙ্গল কামনায় পুজো দেব।’’

পুজোর আনন্দের মাঝেও নিজের অনুশীলন নিয়ে ভাবছেন স্বপ্না। এ দিন বলেন, ‘‘আমি কাল-পরশুই কলকাতা ফিরে যাব। এখন আমার শরীর অনেকটাই সুস্থ।’’ আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ফের মাঠে নামবেন বলে জানালেন তিনি। অলিম্পিকে ভাল ফল করাকেই পাখির চোখ করে এগোচ্ছেন তিনি। স্বপ্না বলেন, ‘‘অনুশীলন শুরু করতে হবে। সামনেই ২০-২০ অলিম্পিক। এখন লক্ষ্য শুধুমাত্র অলিম্পিকে সেরা হওয়া।’’

অবশ্য চাকরি নিয়েও ভাবছেন তিনি। বলেন, ‘‘চাকরি তো আমাকে করতেই হবে। তবে সিদ্ধান্ত হয়নি কিছু। দেখা যাক কোন চাকরি করলে আমার অ্যাথলিট জীবনের সঙ্গে সুবিধে হয়, তেমন চাকরি করতে চাই আমি।’’ পুজোয় মেয়ে বাড়ি আসায় বেজায় খুশি মা বাসনা বর্মণ। তিনি বলেন, ‘‘শনিবার রাতে মেয়েকে নিয়ে কালিয়াগঞ্জের মেলায় ঘুরেছি। মেয়ের প্রিয় খাবারও তৈরি করা হয়েছে।’’ খুশি বাবা পঞ্চানন বর্মনও, তিনি বলেন, ‘‘আমার পুচুন (স্বপ্নার ডাক নাম) বাড়ি আসায় সত্যিই খুব ভাল লাগছে। পুজোয় ওকে দেখব ভাবতেই পারিনি।’’ এ দিন বাড়ি ফিরে দুপুরের খাবার খেয়ে একটু বিশ্রাম নিয়েই ফের বেরলেন স্বপ্না। পাড়ার বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে, আর তো কয়েকটাদিন।