ডেঙ্গির মতো উপসর্গ দেখাচ্ছে অন্য ভাইরাল জ্বরেও, বিশেষ করে কচিকাঁচাদের ক্ষেত্রে— এমনটাই দাবি চিকিৎসকদের একাংশের। আর তা নিয়েই ধন্দে তাঁরা। কোন ভাইরাসের জন্য তা ঘটছে, সে নিয়ে অন্ধকারেই রয়েছেন ওই চিকিৎসকেরা।
চিকিৎসকদের কয়েক জন জানান, ভাইরাল জ্বর তিন দিনেই সেরে যায়। অথচ সাত দিন ধরে এই জ্বর থাকছে। তাই তাঁরা ডেঙ্গি সন্দেহ করে ম্যাক অ্যালাইজা পরীক্ষাও করাচ্ছেন। তাতে কিন্তু ডেঙ্গির জীবাণু মিলছে না। শিলিগুড়ি হাসপাতালের শিশু বিভাগে এখন জ্বর নিয়ে প্রচুর রোগী আসছে। রোজ শিশুদের বহির্বিভাগে ৩৫০-৪০০ শিশু আসছে। তিন দিনের পরিবর্তে এই জ্বর ৬-৭ দিন থাকছে। সেই সঙ্গে ডেঙ্গি আক্রান্তের মতো রক্তের প্লেটলেট বা অনুচক্রিকার সংখ্যা কমছে। কমছে শ্বেত রক্তকণিকা বা লিউকোসাইটও। এখানেই প্রাথমিক ভাবে ধন্দ তৈরি হচ্ছে। 
মঙ্গলবার শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে জ্বরে আক্রান্ত ৩ বছরের প্রাচী রায়, ৬ বছরের অঞ্জলি কুমারীদের চিকিৎসা করাতে নিয়ে এসেছিলেন অভিভাবকেরা। প্রাচীর জ্বর চলছে ৫ দিন ধরে, অঞ্জলির ৭ দিন। তাদেরও এ দিন ডেঙ্গি নির্ণয়ের পরীক্ষা করাতে দিলেন চিকিৎসক। 
শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞদের একাংশ বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। কী ভাইরাস, তা নিয়ে পরীক্ষা হলে ভাল হয় বলে জানান তাঁরা। চিকিৎসক সুবীর ভৌমিক বলেন, ‘‘জ্বর সাত দিন ধরে থাকছে। রক্তে প্লেটলেট, লিউকোসাইট কমছে। স্বাভাবিক ভাবেই ডেঙ্গি বলে সন্দেহ হচ্ছে। তাই রক্ত পরীক্ষাও করতে দেওয়া হচ্ছে। তবে ডেঙ্গির জীবাণু মিলছে না।’’ তাঁর দাবি, দু-একটি ছাড়া কোনও ক্ষেত্রে ডেঙ্গির জীবাণু মিলছে না। চিকিৎসক রঞ্জিত ভকত বলেন, ‘‘উপসর্গ দেখে ডেঙ্গি বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে। পরে দেখা যাচ্ছে তা নয়।  অন্য কোনও ভাইরাস  ঘটিত সংক্রমণ।’’
চিকিৎসকরাই জানান, সাধারণত দেড় থেকে দুই লক্ষ প্লেটলেট কাউন্ট থাকার কথা। ডেঙ্গিতে প্লেটলেট খুব কমে যায়। এখন যে জ্বর হচ্ছে তাতেও দেখা যাচ্ছে প্লেটলেট কমছে। তবে তা কমে এক লক্ষ বা ৮০ হাজার হচ্ছে। ডেঙ্গির ক্ষেত্রে তা আরও কমে যায়। প্লেটলেট কমার সময় বোঝা যাচ্ছে না, কোথায় গিয়ে তা দাঁড়াবে। তাই চিকিৎসক, রোগীর পরিবার চিন্তায় পড়ছে। রক্তে লিউকোসাইট ৫ থেকে ১৫ হাজার থাকার কথা। এ ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে ডেঙ্গির মতো শ্বেত রক্তকণিকা কমছে।