বিশেষ কাজে দীর্ঘ দিন পর গোটা কুড়ি পুজো দেখতে হল। প্রতিটি পুজোর এ বারের থিম বোধ হয় ডেঙ্গি জ্বরের সচেতনতা বৃদ্ধি। পোস্টার আর ঘোষণা চলছে অবিরাম। গাছ না কাটা বা কন্যা ভ্রুণ হত্যার নিন্দার পাশে সর্বত্র জ্বলজ্বল করছে ডেঙ্গি মহামারীর করাল ছায়া। হ্যাঁ করাল ছায়ার মতো ক্লিশে শব্দই ব্যবহার করছি। সেই শরৎচন্দ্র তারাশঙ্করের কালের মতোই।

অজানা প্রতিষেধকহীন জ্বরের মৃত্যু ভয়ে অসহায় নরনারীর আত্মসর্মপণের ছবি ছাড়া একে আর কী বলবেন? দু’দিন বাদেই পথপার্শ্বে বাবা ডেঙ্গিদেবের আবির্ভাব হলে অবাক হব না। প্রতিটি বাড়িতে গড়ে একটি করে ডেঙ্গি বা জিন বদলানো ভাইরাল জ্বরের গাঁটফোলা, র‌্যাশ বেরোনো, ফুসকুড়ি ওঠা, চোখ কটকটে, গা মাথা পোড়া জ্বরাসুরের পদচারণায় লড়াই বলতে জ্বর কমাবার ওষুধের প্রতিরোধ। এ যেন নিরস্ত্র জনগণের প্রতি সশস্ত্রের কমব্যাট ফোর্স। মোদ্দা কথা বেঁচে যে আছি মা দুগ্গা ভরসা!

কতো আর আপনি ওয়ান টু ওয়ান ম্যান মার্কিং করবেন? মানে একটি মশার প্রতি সমস্ত মনোযোগ নিবিষ্ট করে প্রতি আক্রমণ? ঘাতক মশার হাত থেকে বাঁচতে বুরখার মতো চলন্ত মশারি, দুনিয়ার সেরা আবেদন উদ্রেককারী মশক তেল, জেল বা স্প্রে হোক এবারের পুজোর থিম গেম।

কলকাতা সহ সাহেবদের সব কবরখানায় গেলে দেখা যায় অমুক চার্লস ডায়েড ইন ম্যালেরিয়া বয়স ১৯। সার দিয়ে কালাজ্বর ম্যালেরিয়ার সমাধি। তা হলে ব্রিটিশ সৈন্যের বিরুদ্ধে ওই মশককুল ব্যবহার করলে আমরা অনেক আগেই স্বাধীনতা পেতাম কি না বলুন।

ঠাট্টা বাদে এটাই এবারের পুজোর চিত্র। নাছোড় মশার বিরুদ্ধে নাছোড় মানুষের প্রতিরোধ। হ্যাঁ, লড়ছেন আর এক দলও। অধুনা নিন্দিত ডাক্তার দল। ওরা না থাকলে ওই অসুরের হাতে আমাদের নিধন অবশ্যম্ভাবী। আসুন ওদের পাশে দাঁড়াই। নিজের নিজের বাড়ির পরিষ্কার জল জমার উৎস চিহ্নিত করি। আমি না থাকলে আপনি কি বাঁচবেন, আপনি না বাঁচলে আমি?