মালদহের ইংরেজবাজার ও পুরাতন মালদহ পুরসভা পরিচালনায় এ বার মনিটরিং কমিটি গঠন করল তৃণমূল। দু’টি পুরসভাতেই দলের জেলা সভাপতি মৌসম নুরকে চেয়ারম্যান করে সেই মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, দুই কমিটিতে মৌসম ছাড়াও দুই পুরসভার পুরপ্রধান ও উপ-পুরপ্রধান সহ একাধিক কাউন্সিলর রয়েছেন। দলীয় সূত্রে খবর, এখন থেকে পুর এলাকার উন্নয়ন থেকে শুরু করে নানা সমস্যা নিয়ে এই মনিটরিং কমিটি প্রথমে আলোচনা করবে এবং এই কমিটির গৃহীত সিদ্ধান্ত পরবর্তী কালে চেয়ারম্যান-ইন-কাউন্সিলের সভা ও বোর্ড মিটিংয়ে পেশ করা হবে। দলীয় স্তরে মনিটরিং কমিটি গঠন করা হলেও দুই পুরসভায় অনাস্থা পর্বের পর আদতে কি কাউন্সিলরদের বৈরিতা মিটবে? এই প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। এ দিকে, ইংরেজবাজার পুরসভার মনিটরিং কমিটিতে প্রাক্তন চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীকে রাখা হলেও তিনি সেই কমিটিতে থাকবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

মাস দেড়েক আগে ইংরেজবাজার ও পুরাতন মালদহ,  দুই পুরসভাতেই তৃণমূলের দুই পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছিলেন কাউন্সিলররাই। তা নিয়ে জেলার রাজনীতিতে হইচই পড়ে যায়। পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে ওঠায় রাজ্য নেতৃত্ব বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে। পুরপ্রধানদের বিরুদ্ধে দলীয় কাউন্সিলরদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ মেটাতে খোদ পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম দুই পুরসভার সমস্ত কাউন্সিলরদের কলকাতায় ডেকে নিয়ে বৈঠক করেন। ফলে অনাস্থা পেশ হলেও সেই প্রেক্ষিতে আস্থা সভা আর দুই পুরসভাতেই হয়নি। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাউন্সিলরদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ মেটাতে পুরমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে পুরসভার কাজকর্ম পরিচালনা নিয়ে দলীয় স্তরে মনিটরিং কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

সোমবার বিকেলে প্রথমে ইংরেজবাজার ও পরে পুরাতন মালদহ পুরসভায় গিয়ে দলীয় কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠক করেন জেলা পর্যবেক্ষক মন্ত্রী গোলাম রব্বানি ও জেলা তৃণমূল সভাপতি মৌসম নুর। দীর্ঘ ক্ষণ বৈঠক চলে। তার পরে কমিটি ঘোষণা হয়। শেষ পর্যন্ত ইংরেজবাজার পুরসভায় মৌসম নুরকে চেয়ারম্যান করে ৮ জন ও পুরাতন মালদহ পুরসভায় মৌসমকেই চেয়ারম্যান করে  ৭ জনের মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বৈঠক শেষে পর্যবেক্ষক রব্বানি বলেন, ‘‘দুই পুরসভায় পুরপ্রধানদের বিরুদ্ধে অনাস্থা এসেছিল। আমরা সমস্যা মেটাই। পুরসভায়  উন্নয়নের গতি আনতে ও মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলীয় ভাবে এ দিন দু’টি পুরসভাতেই  আমরা মনিটরিং কমিটি গড়লাম।’’

মৌসম বলেন, ‘‘পুরসভায় পদাধিকারীরা যেমন রয়েছেন তেমনই থাকছেন। আমাকে দলীয় ভাবে মনিটরিং কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই কমিটি আলোচনা করে পুরসভার উন্নয়ন ও নানা সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করবে।’’

এ দিকে ইংরেজবাজার পুরসভার দলীয় মনিটরিং কমিটিতে নাম রাখলেও সেই কমিটিতে থাকতে চান না প্রাক্তন পুরপ্রধান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ। তিনি বলেন, ‘‘এই পুরপ্রধানের আমলে পুর আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নানা অনিয়ম হয়েছে। তা নিয়ে তদন্ত হবে বলে জানি। এ হেন পুরসভার কোনও কমিটিতে আমি থাকতে রাজি নই। দলীয় নেতৃত্বকে তা জানিয়েও দিয়েছি।’’ পুরপ্রধান নীহাররঞ্জন ঘোষ অবশ্য অনিয়মের অভিযোগ মানতে নারাজ।