এ বার বিজেপির জেতা পঞ্চায়েতে বিজেপিকে বোর্ড গঠন করতে দেওয়ার দাবি উঠল তৃণমূলের অন্দরে৷ সেই বোর্ড গঠন যাতে সুষ্ঠুভাবে হয়, সেজন্য ওই তৃণমূল নেতাদের একাংশ বৃহস্পতিবার বিকেলে দরবার করলেন ব্লক প্রশাসনের কর্তাদের কাছে৷ ঘটনাটি ঘটেছে আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটার ধনিরামপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েতে৷

আলিপুরদুয়ারের ৬৬টি পঞ্চায়েতের মধ্যে ৮টিতে জয়ী হয়েছে বিজেপি৷ যার মধ্যে একটি ওই ধনিরামপুর ১ পঞ্চায়েত৷ ১৫ আসনের ওই পঞ্চায়েতে বিজেপি ৯টি ও তৃণমূল ৫টিতে জয়লাভ করে৷ গত ২৮ অগস্ট প্রথমবার ওই পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠনের দিন ধার্য হয়৷ কিন্তু আইনশৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় ওইদিন তা স্থগিত করে প্রশাসন৷ এরপর গত ৭ সেপ্টেম্বর ফের বোর্ড গঠনের দিন ঠিক হলেও, ওইদিন গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে পৌঁছনোর আগেই প্রশাসনিক আধিকারিকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে৷ ফলে সেদিনও বোর্ড গঠন ভেস্তে যায়৷ বিজেপি ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে খণ্ডযুদ্ধও বেধে যায়।

তৃণমূল সূত্রের খবর, বিষয়টি নিয়ে বুধবার রাতে ফালাকাটায় বৈঠকে বসেন তৃণমূলের ব্লক কোর কমিটির সদস্যরা৷ যদিও সেই বৈঠকে ছিলেন না কোর কমিটির সভাপতি তথা বিধায়ক অনিল অধিকারী৷ বৈঠকে নেতৃত্ব দেন কোর কমিটির কার্যকরী সভাপতি তথা জেলা পরিষদের জয়ী প্রার্থী সন্তোষ বর্মণ৷

সূত্রের খবর, বুধবার রাতের ওই বৈঠকেই নেতাদের একাংশ ধনিরামপুর ১ পঞ্চায়েতে সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে বিজেপিকেই বোর্ড গঠনের সুযোগ দেওয়া উচিত বলে দাবি তোলেন৷ যদিও সন্তোষবাবু নিজে অবশ্য বিজেপির নাম মুখে নেননি৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা চাই ওই পঞ্চায়েতে যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ তাদেরকেই সুষ্ঠভাবে বোর্ড গঠন করতে দেওয়া হোক৷ এটাই তো গণতন্ত্র৷” এরপর বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই গ্রাম পঞ্চায়েতে দ্রুত বোর্ড গঠনের দাবি নিয়ে ব্লক প্রশাসনের কর্তাদের দ্বারস্থ হন সন্তোষবাবু-সহ তৃণমূলের নেতারা৷

সভাধিপতির দৌড়ে এগিয়ে থেকেও ওই পদটি না পেয়ে সন্তোষবাবু ইতিমধ্যেই দলের জেলা সভাপতি মোহন শর্মা ও বিধায়ক অনিলবাবুর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন৷ তাতে তিনদিন আগেই অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছিল তৃণমূলের জেলা শীর্ষ নেতৃত্বকে৷ এ বার তাঁর নেতৃত্বে বসা বৈঠকে এমন দাবি ওঠায় তাদের সেই অস্বস্তি আরও বেড়েছে৷ দলের জেলা নেতাদের একাংশের কথায়, ‘‘সভাধিপতি হতে পেরেই এখন দলকে বিব্রত করতে চাইছেন সন্তোষবাবু৷’’ যদিও সন্তোষবাবুর ঘনিষ্ঠরা পাল্টা বলছেন, ‘‘গণতান্ত্রিক উপায় জয়ী কোনও দল যদিও বোর্ড গঠন করে তাতে অন্যায় কী?’’

ফালাকাটার বিধায়ক অনিল অধিকারী অবশ্য বলেন, ‘‘ধনিরামপুর ১ পঞ্চায়েতে কে বোর্ড গঠন করবে সেটা বোর্ড গঠনের সময় ঠিক হবে৷ দলের অন্দরে এ বিষয়ে কোনও দাবি উঠেছে বলে জানি না৷ তবে সেখানে যাতে দ্রুত বোর্ড গঠন হয় সে ব্যাপারে আমার সঙ্গে আলোচনা করেই এদিন ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকদের কাছে গিয়েছেন সন্তোষবাবুরা৷’’

এ দিকে, ওই পঞ্চায়েতে জয়ী দলের সদস্যদের নিয়ে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের কর্তাদের কাছে দরবার করেন বিজেপির জেলা নেতারাও৷ বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত রায় বলেন, ‘‘ওখানে সুষ্ঠুভাবে বোর্ড গঠন না হলে আমাদের পঞ্চায়েত সদস্যদের জয়ের শংসাপত্র ফেরত নিয়ে নিতে প্রশাসনকে বলেছি৷’’