পিকনিক করতে গিয়ে স্থানীয় ক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে বচসা থেকে হাতাহাতির অভিযোগ৷ তার জেরেই কান কাটা গেল তৃণমূলের এক গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যের৷ অভিযোগ, তৃণমূলের ওই গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যের কান কামড়ে ছিড়ে ফেলা হয়৷ ঘটনার জেরে রাতে ক্লাবে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় বলেও অভিযোগ৷ গোটা ঘটনার পিছনে বিজেপিকে দায়ী করেছেন আক্রান্ত তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য৷ যদিও বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, তৃণমূলেরই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে৷

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যের নাম করণ কুজুর৷ তিনি মাঝেরডাবরি গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য৷ রবিবার দুপুরের দিকে নোনাই নদীর ধারে মাঝেরডাবরি চা বাগানের ১৩ জন শিশু-কিশোরকে নিয়ে পিকনিকে গিয়েছিলেন তিনি৷ তাঁর সঙ্গে ওই গ্রাম পঞ্চায়েত 

এলাকার সুপারভাইজার সঞ্জীব ওরাওঁ-সহ আরও দু’জন ছিলেন৷ আক্রান্তদের অভিযোগ, বিকাল চারটে নাগাদ স্থানীয় চেচাখাতা ঘোষপাড়া সংস্কার সমিতি ক্লাবের কয়েকজন সদস্য এসে গাঁজা খাওয়ার জন্য আগুন নিতে চায়৷ তাঁরা একটি দেশলাই এগিয়েও দেন বলে দাবি তাঁদের৷ গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যের অভিযোগ, “কিন্তু ওরা জ্বলন্ত উনুন থেকে আগুন নিতে চায়৷ আমরা তাতে বাধা দিই৷ এরপরই ওই ক্লাব থেকে দশ-বারোজন এসে আমাদের উপর বাঁশ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়৷ কামড়ে আমার ডান কান ছিঁড়ে নেয়৷”

ঘটনায় করণ কুজুর ছাড়াও সঞ্জীব ওরাওঁ জখম হন৷ রাতে তাঁদের আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে করণকে সেখানে ভর্তি করা হয়৷ সঞ্জীবকে অবশ্য প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়৷ করণের অভিযোগ, “আমি নিশ্চিত হামলাকারীরা প্রত্যেকেই বিজেপির লোক৷” একই অভিযোগ করেন সঞ্জীবও৷

এদিকে খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় 

আলিপুরদুয়ার থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী৷ তবে তার আগেই অবশ্য ক্লাবে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ৷ বিজেপির জেলা সম্পাদক জয়ন্ত রায়ের 

অভিযোগ, “আক্রান্ত ও অভিযুক্তরা প্রত্যেকেই তৃণমূলের লোক৷ চাপে পড়ে গিয়ে নিজেদের ভাবমূর্তি বাঁচাতে এখন বিজেপির নাম করছে৷” গোলমাল এড়াতে বিশাল পুলিশ বাহিনী রাত পর্যন্ত ঘটনাস্থলে ছিল৷ আলিপুরদুয়ার থানার আইসি জয়দেব ঘোষ বলেন, “একটা ঝামেলা হয়েছিল৷ এই মুহূর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে৷”